বড় সুটকেস নিয়ে সোজা পৌরসভার অন্দরে চেয়ারম্যান! খোলার পর যা দেখা গেল, চোখ কপালে উঠবে

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তিনি পৌরসভার কাজে বিশেষ অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু টানা প্রায় তিন সপ্তাহ বাদে সোমবার বিকেলে আচমকাই পৌরসভায় এসে পৌঁছলেন চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে কয়েকজন অনুগামীও ছিলেন। আর তাঁদের সঙ্গেই ছিল একটি বড় আকারের সুটকেস। কিন্তু গোল বাঁধল অন্য জায়গায়। কয়েক ঘণ্টা পর চেয়ারম্যান পৌরসভা থেকে বেরিয়ে গেলেও তাঁর অফিসেই থেকে যায় সেই রহস্যময় সুটকেসটি! আর তা ঘিরেই জলপাইগুড়ি পৌরসভায় মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হয় তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক জল্পনা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার বিকেলে কয়েকজন অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে জলপাইগুড়ি পৌরসভায় আসেন চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। এরপর একটানা কয়েকঘণ্টা তিনি নিজের অফিস করেন। ঠিক সেই সময়ই কানাঘুষো ছড়াতে শুরু করে যে, পৌরভবনের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র লোপাট করতেই নাকি সুটকেস নিয়ে ভেতরে ঢুকেছেন চেয়ারম্যানের অনুগামীরা। ফাইল লোপাটের এই আশঙ্কায় তড়িঘড়ি পৌরসভায় এসে হাজির হন এলাকার বেশ কিছু বিজেপি কর্মী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কোতয়ালি থানার পুলিশ আধিকারিকরাও।
এরপর কিছু সময় অফিস করে চেয়ারম্যান পৌরসভা থেকে বেরিয়ে গেলেও তাঁর চেম্বারে সেই রহস্যময় সুটকেসটি পড়ে থাকায় জল্পনা আরও চরমে ওঠে। শেষ পর্যন্ত এই ধোঁয়াশা কাটাতে আসরে নামে প্রশাসন। রাতে এক্সিকিউটিভ অফিসার, অফিস সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবং বেশ কয়েকজন অফিস স্টাফকে সঙ্গে নিয়ে চেয়ারম্যানের চেম্বার খোলেন পুলিশ আধিকারিকরা। সকলের উপস্থিতিতেই খোলা হয় সেই সুটকেস।
সুটকেস খোলার পর দেখা যায়, ভেতরে কোনও গোপন নথি বা ফাইল নয়, রয়েছে কেবল কিছু জামাকাপড়! পরে জানা যায়, ওই সুটকেসটি আদতে চেয়ারম্যানের গাড়ির চালকের। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতেই সেই সুটকেসটি চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের এক অনুগামীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এই পুরো ঘটনা ও সুটকেস ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্যের অবসান ঘটিয়ে এক্সিকিউটিভ অফিসার দেবদুলাল পাত্র বলেন, “আসলে এটা কোনও রহস্যই নয়। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আরও দুই-তিনজন এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ একজন ভুল করে সুটকেসটি চেয়ারম্যানের ঘরে নিয়ে চলে এসেছিলেন। পরে কারও ফোন আসে যে ওই সুটকেসটি তাঁদের দরকার। তখন আমাদের মনে হয়, চেক না করে সুটকেসটি পাঠানো ঠিক হবে না। তাছাড়া আগামী ২৭ তারিখ একটি ভোট রয়েছে এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনও চলছে। তাই পরিষ্কার থাকাই ভালো, যাতে অফিস থেকে কোনও তথ্য বা ফাইল নিয়ে গুঞ্জন না ছড়ায়।”
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন পর পৌরসভায় তাঁর হঠাৎ উপস্থিতি নিয়ে চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আপনারা জানেন, পারিবারিক কারণে আমি একটু বাইরে ছিলাম। মাঝখানে একদিন এসেছিলাম। আজ মূলত পৌরসভার অস্থায়ী কর্মীদের বকেয়া বেতন যাতে দ্রুত ক্লিয়ার হয়, সেই ফাইল সই করতেই এসেছিলাম। পৌরসভার নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেটাই সুনিশ্চিত করছি।” তবে পৌরসভায় পুলিশ ঢোকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুলিশ ঠিক কী কারণে এসেছে সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণাই নেই।