ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল ইরান! চাঞ্চল্যকর দাবি করে বিশ্বজুড়ে হুলস্থুল ফেলে দিলেন নেতানিয়াহু

ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এবার এক বিস্ফোরক দাবি করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তাঁর অভিযোগ, তেহরান সরাসরি তাঁর পরিবারকে নিশানা করেছিল এবং তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। সম্প্রতি দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলতে গিয়েই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনেন তিনি।
নেতানিয়াহুর মোট তিন সন্তান—বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু, ছোট ছেলে আভনার এবং কন্যা নোয়া নেতানিয়াহু-রথ। সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, “এটি অত্যন্ত অবিশ্বাস্য এবং মারাত্মক একটি ঘটনা। ইরান আমার এক ছেলেকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল।” তবে তাঁর দুই ছেলের মধ্যে ঠিক কাকে নিশানা করা হয়েছিল, কিংবা কখন ও কীভাবে এই খুনের ছক কষা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তাঁদের পরিবারকে সরকারের তরফ থেকে দেওয়া নিরাপত্তা নিয়ে সম্প্রতি নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সেই সমালোচনার জবাব দিতেিয়েই নেতানিয়াহু জানান, তাঁর পরিবারের সদস্যদের যে নিরাপত্তা সুরক্ষা দেওয়া হয়, তা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং চরম ঝুঁকির কারণেই তা আবশ্যিক। তাঁর কথায়, এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে শত্রুরা সফল হয়ে যেত। নির্বাচনী প্রচারের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে সংযত থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসেই ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত (Shin Bet) সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা এবং তাঁদের দুই ছেলের জন্য বাড়তি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অনুমোদন করেছিল। এর আগে বড় ছেলে ইয়াইর দীর্ঘকাল আমেরিকার মায়ামিতে বসবাস করায় এবং বিদেশে তাঁর নিরাপত্তার পেছনে সরকারি অর্থ খরচ হওয়া নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বিস্ফোরক দাবি বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে নতুন করে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে।