পটল কাটলেই ফেলে দেন ভেতরের বীজ? অজান্তেই মারাত্মক ভুল করছেন না তো! কী বলছেন পুষ্টিবিদরা?

বাঙালির হেঁশেলে পটল নেই, এমন দিন খুব কমই দেখা যায়। বিশেষ করে গরমকালে পটল-ভাত, পটল দোলমা বা দই পটল হলে তো আর কথাই নেই! পটল শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতাও। এতে ক্যালোরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকায় ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি দারুণ কার্যকর। কিন্তু পটল কাটতে গেলেই যে প্রশ্নটি সবার আগে মাথায় আসে, তা হলো—পটলের ভিতরের বীজগুলো কি ফেলে দেওয়া উচিত, নাকি রেখেই রান্না করা ভালো?
অধিকাংশ মানুষই সময় বাঁচাতে বীজ সমেত পটল রান্না করে ফেলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই ছোট্ট অভ্যাসের ফলে শরীরের বড় ক্ষতি হতে পারে? চলুন জেনে নেওয়া যাক, পুষ্টিবিদ ও আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে কী বলছেন।
পটলের বীজ খাওয়া কি আদৌ ক্ষতিকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে পটলটি কতটা কচি বা পাকা, তার ওপর।
কচি পটলের বীজ উপকারী: পটল যদি কচি, টাটকা এবং সবুজ হয়, তবে তার নরম ও সাদাটে বীজ খাওয়া একেবারেই ক্ষতিকর নয়, বরং বেশ উপকারী। এই বীজে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে, যা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অন্ত্র পরিষ্কার রাখে। এছাড়া এতে সামান্য পরিমাণে প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও পাওয়া যায়।
পাকা পটলের বীজ বিপজ্জনক: সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন পটল একটু বেশি পেকে যায় বা ‘বুড়ো’ হয়ে যায়। পটল পেকে গেলে তার ভিতরের বীজ শক্ত, কালচে ও তেতো হয়ে যায়। এই শক্ত বীজ আমাদের পাকস্থলী সহজে হজম করতে পারে না। এর ফলে গ্যাস, অম্বল, পেট ফাঁপা, বদহজম এবং তীব্র পেটে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আইবিএস (IBS), অ্যাসিডিটি বা পেটের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই শক্ত বীজ মারাত্মক ক্ষতিকর। এছাড়া অতিরিক্ত ফাইবারযুক্ত বীজ বেশি খেলে ডায়রিয়া বা বমি ভাব হতে পারে, এবং পিত্তথলি বা কিডনিতে পাথর থাকলে তা বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সঠিক নিয়ম কী? রান্না করার সময় কী করবেন?
বাজার থেকে সবসময় কচি, টাটকা এবং শক্ত দেখে পটল কিনুন। আঙুল দিয়ে টিপে দেখলে যদি মনে হয় ভিতরে প্রচুর বীজ রয়েছে, তবে সেই পটল না কেনাই ভালো। কচি পটলের বীজ নরম হওয়ায় তা সহজেই হজম হয়ে যায়।
পটল যদি একটু পেকে গিয়ে হলদেটে হয়ে যায়, তবে রান্নার আগে চামচ দিয়ে ভিতরের শক্ত বীজগুলো ফেলে দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
এছাড়া পটল দোলমা বা পটলের পুর ভরা কোনও পদ বানানোর সময় তো বীজ বের করতেই হয়, সেক্ষেত্রেও বীজ ফেলে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সুস্থ থাকতে এবং পেটের গোলযোগ এড়াতে এখন থেকে পটল রান্নার আগে এই সাধারণ টিপসটি অবশ্যই মাথায় রাখুন।