চাকরি ছাড়লেই কি পিএফ-এর সুদ বন্ধ হয়? ৫৬ বছর বয়সের পর নিয়ম কী বলে জানলে চমকে যাবেন!

পুরোনো কোনো পিএফ অ্যাকাউন্ট বা প্রভিডেন্ট ফান্ডে টাকা জমা থাকলে, সেই টাকার ওপর ঠিক কতদিন পর্যন্ত সুদ মিলতে থাকে—এ বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, চাকরি ছেড়ে দিলেই বোধহয় পিএফ অ্যাকাউন্টে সুদ আসা বন্ধ হয়ে যায়। তবে বাস্তব চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা EPFO-র নিয়ম অনুযায়ী, কেবল চাকরি পরিবর্তন করলেই কোনো পিএফ অ্যাকাউন্ট সঙ্গে সঙ্গে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় না। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি ছাড়া অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয় না এবং সুদও বন্ধ হয় না।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টের মাধ্যমে গ্রাহকদের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছে ইপিএফও। সেখানে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ঠিক কোন পরিস্থিতিতে একটি পিএফ অ্যাকাউন্টে সুদ আসা বন্ধ হয় এবং কীভাবে পুরনো পিএফ ব্যালেন্স পরিচালনা করা উচিত।

পিএফ-এর সুদ কবে বন্ধ হয়?
ইপিএফ-এর নিয়ম বলছে, কোনো কর্মচারী যদি ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সে অবসর গ্রহণ করেন, তবে তাঁর অবসরের তিন বছর পর পিএফ অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে এবং এরপরই তাতে সুদ জমা হওয়া বন্ধ হয়। তবে ৫৫ বছর বয়সের আগে যদি কেউ অবসর নেন, সেক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট সঙ্গে সঙ্গে নিষ্ক্রিয় হয় না। ওই ব্যক্তির বয়স ৫৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে নিয়মিত সুদ জমা হতে থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি যদি ৫০ বছর বয়সে চাকরি থেকে অবসর নেন, তবে তাঁর অ্যাকাউন্টটি তৎক্ষণাৎ বন্ধ হচ্ছে না। তিনি ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে সুদ পেতে থাকবেন। এরপর গিয়ে অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় হবে। একইভাবে, কেউ ৫৫ বছর বয়সে অবসর নিলে তাঁর অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হবে ৫৮ বছর বয়সে, এবং কেউ ৫৮ বছর বয়সে অবসর নিলে তা ৬১ বছর বয়সে নিষ্ক্রিয় হবে। এমনকি ৭০ বছর বয়সে অবসর নিলেও ৭৩ বছর বয়স পর্যন্ত সুদ পাওয়ার সুযোগ থাকে।

চাকরি পরিবর্তন করলে কী হয়?
অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, মাঝপথে চাকরি বদলালে পুরনো অ্যাকাউন্টের কী হবে? চাকরি বদল করলেই পুরনো পিএফ অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয় না। তাই আপনার ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর বা ইউএএন (UAN) এবং কর্মজীবনের তথ্য সবসময় আপডেট রাখা জরুরি। নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর পুরনো পিএফ-এর জমানো টাকা নতুন অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। নিয়ম মেনে পিএফ তোলার অপশনও খোলা থাকে। তাই পুরনো ব্যালেন্স ফেলে না রেখে সময়ে তার স্থিতি পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

খুব গুরুত্বপূর্ণ ‘৩৬-মাসের’ নিয়ম
ইপিএফও-র নির্দেশিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ৩৬ মাসের বা তিন বছরের সময়সীমা ঠিক কখন থেকে শুরু হচ্ছে তা বোঝা। বিশেষ করে অবসরের বয়স এবং অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হওয়ার তারিখের হিসাব মাথায় রাখলে পিএফ ব্যালেন্সের ওপর সুদ পাওয়ার সঠিক সময়টি অনুমান করা সহজ হয়। পুরনো অ্যাকাউন্টের টাকা তোলার নির্দিষ্ট নিয়মও রয়েছে। তাই অযথা অবহেলা না করে নিজের পিএফ অ্যাকাউন্টের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা একান্ত প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *