সব মশাই কি রক্ত চোষে? এই অবাক করা জৈবিক রহস্যটা জানা না থাকলে বড় ভুল করবেন!

বর্ষাকাল মানেই চারদিকে জল জমে যাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে মশার উপদ্রব। ঘরের কোণে বা খোলা বাতাসে সামান্য অসাবধান হলেই মশার কামড় খেতে হয় ছোট থেকে বড় সকলকে। মশা কামড়ালে শরীরে যেমন চুলকানি ও জ্বালা শুরু হয়, তেমনই দেখা দেয় ফোলাভাবও। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, মশারা আসলে কেন মানুষ বা পশুর রক্ত খায়? সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, পৃথিবীতে থাকা সমস্ত মশা কিন্তু রক্ত খায় না এবং রক্ত আদতে মশাদের প্রধান খাদ্যও নয়। স্ত্রী মশাদের রক্ত খাওয়ার নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট জৈবিক কারণ।
রক্ত খায় কেবল স্ত্রী মশারা
প্রকৃতিতে থাকা মশার মধ্যে কেবল স্ত্রী মশাই মানুষ কিংবা পশুর রক্ত চুষে খায়, পুরুষ মশারা কখনোই রক্ত খায় না। পুরুষ ও স্ত্রী—উভয় ধরনের মশাই মূলত গাছপালা থেকে পাওয়া রস এবং ফুলের মধু খেয়ে নিজেদের শক্তি জোগাড় করে। কিন্তু সন্তান উৎপাদনের জন্য বা ডিম তৈরির সময় স্ত্রী মশাদের অতিরিক্ত পুষ্টির প্রয়োজন হয়। রক্তে থাকা বিভিন্ন প্রোটিন ও পুষ্টিকর উপাদান ডিমের সঠিক বিকাশে সাহায্য করে। আর এই কারণেই প্রজনন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্ত্রী মশারা কামড়ায়।
অর্থাৎ, ওড়ার জন্য বা দৈনন্দিন শক্তির প্রয়োজনে মশারা শর্করা বা মধুর ওপর নির্ভর করে, রক্ত খাওয়াটা তাদের কোনো প্রধান খাদ্যগ্রহণ নয়। প্রয়োজনীয় পুষ্টি সংগ্রহ করে স্ত্রী মশা উপযুক্ত স্থানে ডিম পাড়ে।
মশারা কীভাবে শিকার খুঁজে পায়?
মশারা শুধু মানুষ নয়, পাখি ও অন্যান্য অনেক প্রাণীকেও সমানভাবে আক্রমণ করে। শিকার বা উৎস খোঁজার জন্য তারা নানা ধরনের প্রাকৃতিক সংকেত ব্যবহার করে। মানুষের শরীর থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড, শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা এবং ত্বকের সুনির্দিষ্ট গন্ধ মশাদের খুব সহজে শিকার খুঁজে পেতে সাহায্য করে। যেমন, আমরা যখন স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস ফেলি, তখন যে কার্বন ডাই-অক্সাইড বাইরে বেরিয়ে আসে, তার মাধ্যমেই মশারা আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়।
মশা কামড়ালে কেন চুলকায়?
স্ত্রী মশা যখন আমাদের শরীর থেকে রক্ত চুষতে বসে, তখন সে ত্বকের ভেতরে নিজের লালারস বা স্লাইভা প্রবেশ করিয়ে দেয়। এই লালারসে এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা রক্তকে সহজে জমাট বাঁধতে না দিয়ে বইতে সাহায্য করে। আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম যখন এই ভিনদেশী পদার্থের মুখোমুখি হয়, তখন তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানায়। আর ঠিক এই কারণেই কামড়ের জায়গায় লালচে ভাব, তীব্র চুলকানি বা ফোলাভাব দেখা দেয়। অর্থাৎ, মশার লালারসের প্রতি আমাদের শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া হলো চুলকানির আসল কারণ।
সব মশা সমানভাবে রোগ ছড়ায় না ঠিকই, তবে কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া বা চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। তাই মশার কামড়কে সাধারণ বিষয় ভেবে অবহেলা না করে, বর্ষার এই দিনে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখুন এবং মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।