মিষ্টিমুখের খরচ কি বাড়বে? উৎসবের মরশুমের আগে চিনির বাজারে স্বস্তি আনতে বিরাট সিদ্ধান্ত সরকারের!

উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে দেশের বাজারে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বাজারে চিনির জোগান স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লক্ষ মেট্রিক টন কাঁচা চিনি শুল্কমুক্তভাবে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT)-এর তরফে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এই ১০ লক্ষ মেট্রিক টনের ট্যারিফ রেট কোটা (TRQ)-র আওতাধীন আমদানি সম্পূর্ণ ‘ফ্রি’ অর্থাৎ শুল্কমুক্ত থাকবে।
চিনি আমদানিতে বিশেষ ছাড় ও নিয়ম
পাশাপাশি সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ‘স্ট্যান্ডার্ড ইনপুট-আউটপুট নর্মস’-এর (SION E52) অধীনস্থ ‘অ্যাডভান্স অথরাইজেশন’ স্কিমটিকে একবারের জন্য ট্যারিফ রেট কোটা (TRQ) স্কিমে আমদানির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই সুবিধার আওতায় ইতিমধ্যে আমদানি করা কাঁচা চিনি থেকে উৎপাদিত এবং ভবিষ্যতে তৈরি হতে চলা পরিশোধিত চিনিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করতে এবং স্কিম বদলের বিস্তারিত পদ্ধতি সম্পর্কে খুব শীঘ্রই একটি পাবলিক নোটিশ জারি করবে DGFT।
উৎসবের মরশুমে চিনির জোগান বাড়াতে তৎপরতা
ভারতে দুর্গাপূজা সহ একাধিক উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার কারণে দেশজুড়ে চিনির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেশ চড়ে থাকে। আর এই সম্ভাব্য চাহিদা বৃদ্ধি এবং বাজারে কৃত্রিম ঘাটতি রুখতেই সরকারের এই আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ। চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য বজায় রাখতে গত ৯ আগস্ট কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকও করেছিলেন। সেখানে চিনির বর্তমান মজুত, উৎপাদন এবং উৎসবের মরশুমের সামগ্রিক চাহিদা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের পরেই মন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন যাতে মরশুমজুড়ে বাজারে পর্যাপ্ত স্টক বজায় থাকে এবং জোগান নিয়ে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত মে মাসে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বাজারে জোগান ঠিক রাখতে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনির রপ্তানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারত। সব মিলিয়ে, উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের হেঁসেলে মিষ্টির খরচ যাতে নাগালের বাইরে না যায়, সেদিকেই এখন কড়া নজর রাখছে কেন্দ্রীয় সরকার।