উৎসবের আগেই হু হু করে বাড়ছে চিনির দাম! মজুতদারদের লাগাম টানতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র!

উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে দেশের বাজারে চিনির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর এবার বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি রুখতে নতুন করে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহার করেন এমন বড় ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠানগুলি ১৫ দিনের বেশি অতিরিক্ত চিনি মজুত রাখতে পারবে না।

দাম বৃদ্ধির নেপথ্যের কারণ:
এর আগে গত জুলাই মাসে বড় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের জন্য চিনির মজুতসীমা ৩০ দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো যায়নি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক মাসে দেশে চিনির দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড গড়েছে। অন্যদিকে, অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও খামখেয়ালি আবহাওয়ার কারণে আখ চাষেও তার প্রভাব পড়েছে, যা সামগ্রিক উৎপাদনে টান ধরাচ্ছে।

কাদের জন্য প্রযোজ্য এই নতুন নিয়ম?
নতুন এই নির্দেশ মূলত সেই সমস্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা প্রতি মাসে অন্তত ১০ মেট্রিক টন চিনি ব্যবহার করেন। এর মধ্যে রয়েছে:

বিস্কুট ও মিষ্টি প্রস্তুতকারক সংস্থা

কনফেকশনারি ও বেকড ফুড প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান

কোল্ড ড্রিংকস বা সফ্ট ড্রিঙ্ক প্রস্তুতকারী সংস্থা

বড় বড় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট

গত এক বছরের গড় মাসিক ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এই ১০ মেট্রিক টনের সীমা নির্ধারণ করা হবে। তবে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলি এই মজুতসীমার আওতার বাইরে থাকবে।

কেন এই আকস্মিক কড়াকড়ি?
সাধারণত গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো এবং দীপাবলির মতো উৎসবের মরশুমে দেশে চিনির চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই সুযোগে মিষ্টি ও খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি অতিরিক্ত পরিমাণে চিনি কিনে গুদামজাত করতে শুরু করে, যার ফলে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট ও দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়। সাধারণ মানুষের পকেট বাঁচাতেই এই উৎসবমুখর সময়ে চিনির জোগান স্থিতিশীল রাখতে চাইছে কেন্দ্র।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমিত শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির মতো বড় পদক্ষেপের কথাও বিবেচনা করছে সরকার। শেষ পর্যন্ত এই কঠোর পদক্ষেপে চিনির বাজারদর সাধারণের নাগালে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *