অতিরিক্ত চাকরির বাইরেও কি মুক্তি সম্ভব? মুদ্রাস্ফীতিকে বুড়ো আঙুল দেখাতে কী পরামর্শ দিলেন এই তরুণী উদ্যোক্তা?

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কেবল একটি গতানুগতিক চাকরির ভরসায় বসে থেকে মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে লড়াই করা কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের চিন্তা ও অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ফোবেট মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা রিয়া উপ্রেতি। সাধারণ আট ঘণ্টার চাকরির বাইরে গিয়ে নিজস্ব কিছু একটা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে রিয়া জানান যে তিনি মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে দুটি বাড়ি কিনে ফেললেও, বর্তমান আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির বাজারে তাঁর সন্তানরা হয়তো একটি বাড়ি কেনার সুযোগও নাও পেতে পারে। ভারতে যেভাবে সম্পত্তির দাম মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, অথচ বহু ক্ষেত্রেই সেই অনুপাতে বেতন বাড়ছে না, তাতে সাধারণ মানুষের জন্য অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন যে আরও জটিল হয়ে উঠছে, সেটাই এই মন্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বিভিন্ন ক্ষেত্রের সফল ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রিয়া জানান যে, বহু ব্যস্ত চিকিৎসক, কোটি কোটি টাকার ব্যবসার মালিক কিংবা লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার থাকা কন্টেন্ট স্রষ্টারাও নিজেদের কমফোর্ট জোন বা স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকেন না। তিনি নিজে কখনই নির্দিষ্ট কোনো একটি ব্যবসায়িক মডেলে আটকে থাকেননি এবং এটিই তাঁর সাফল্যের অন্যতম গোপন চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বেশিরভাগ সফল মানুষই তাঁদের মূল পেশার বাইরে সমান্তরালভাবে অন্য কিছু তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যান।
কেরিয়ারে ন্যূনতম প্রচেষ্টার মাধ্যমে কেবল ন্যূনতম ফলাফলই পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন এই তরুণী উদ্যোক্তা। তাঁর মতে, মুদ্রাস্ফীতিকে পরাস্ত করার একমাত্র উপায় হলো ইক্যুইটি, নিজস্ব ব্যবসা, মেধা সংক্রান্ত সম্পত্তি (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি), বিভিন্ন সম্পদ বা একটি শক্তিশালী ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড তৈরি করা। প্রসঙ্গত, গায়ক ও অভিনেতা রবি কিষণের একটি জনপ্রিয় উক্তির কথাও এই প্রসঙ্গে টেনে এনেছেন তিনি, যেখানে বলা হয়েছে যে নিজের পরিচিতি তৈরি করলে সাফল্য ও অর্থ নিজে থেকেই পিছন পিছন আসে।