“ব্যাঙ্ক কি অভিষেকের মুখ দেখতে চাইছে?” অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ইস্যুতে হাইকোর্টের তোপে বেসরকারি ব্যাঙ্ক!

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ও ক্রেডিট কার্ড ব্লক করাকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে এক নজিরবিহীন ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে বেসরকারি ব্যাঙ্কের আইনজীবীকে কার্যত ভর্ৎসনা করলেন হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। ব্যাঙ্কের বারংবার অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে বিচারপতির কড়া পর্যবেক্ষণ, “আপনারা কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখতে চাইছেন?”

আদালতে কেন ক্ষুব্ধ হলেন বিচারপতি?

মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও ব্যাঙ্কের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। আদালতকে প্রথমে জানানো হয়েছিল, কেওয়াইসি (KYC) আপডেট না থাকার কারণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। পরবর্তীতে শুনানির সময় ব্যাঙ্কের তরফে দাবি করা হয়, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই পরস্পরবিরোধী মন্তব্যে বিরক্ত হয়ে বিচারপতি বলেন, “আপনারা এইভাবে অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন না। ব্যাঙ্ক কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখতে চাইছে যে বারবার তাঁকে ব্যাঙ্কে ডেকে পাঠাচ্ছে?”

আদালতে সওয়াল-জবাব:

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, কোনওরকম পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাঁর মক্কেলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও দু’টি ক্রেডিট কার্ড ব্লক করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, অভিষেকের কেওয়াইসি ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বৈধ থাকার কথা, তবুও কেন তাঁকে ব্যাঙ্কে ডেকে পাঠানো হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।

বিচারপতি কৃষ্ণ রাও এদিন স্পষ্ট করে বলেন, “বর্তমানে অনলাইনে কেওয়াইসি আপডেট করার সুযোগ রয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও সেই পদ্ধতি কার্যকর হচ্ছে। তাহলে অভিষেকের ক্ষেত্রে কেন আলাদা নিয়ম?” আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে গ্রাহককে যে ভাষায় চিঠি পাঠানো হয়েছে, তাও আপত্তিকর।

ব্যাঙ্কের সাফাই ও আদালতের নির্দেশ:

ব্যাঙ্কের আইনজীবীর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামের সঙ্গে একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত জড়িয়ে রয়েছে, তাই প্রকাশ্যে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। বিচারপতি পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নিজের অবস্থান স্পষ্ট করুন, না হলে ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে তলব করতে বাধ্য হব। গ্রাহককে না জানিয়ে কীভাবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারেন?”

বিচারপতি বেলা ১২টার মধ্যে ব্যাঙ্কের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দেন এবং দুপুর ১টায় মামলার পুনরায় শুনানির সময় ধার্য করেন। প্রয়োজনে ব্যাঙ্কের কর্মী গিয়ে বাড়ি থেকে কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে পারে কি না, সে বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন আদালত। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের জন্য ব্যাঙ্ককে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *