পরীক্ষায় লাগাতার ভুলের খেসারত! এক ধাক্কায় ৬০০ বিশেষজ্ঞকে ছাঁটাই করল NTA, আর কী কী বদল এল?

ইউজিসি নেট (UGC-NET) এবং নিট (NEET)-সহ একাধিক সর্বভারতীয় পরীক্ষায় পরপর প্রশ্নফাঁস এবং ভুলত্রুটির জেরে দেশজুড়ে বিতর্কের মুখে পড়া ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-তে এবার এক ঐতিহাসিক ও ব্যাপক রদবদল ঘটানো হলো। শিক্ষা মন্ত্রকের কড়া নির্দেশ পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসল এনটিএ। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে সংস্থা থেকে এক ধাক্কায় প্রায় ৬০০ জন বিষয় বিশেষজ্ঞকে (Subject Expert) সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের পরিবর্তে নতুন বিশেষজ্ঞদের বোর্ডে আনা হচ্ছে।
পরীক্ষা পরিচালন টিমে বড় ছাঁটাই ও পুনর্গঠন
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউজিসি-নেট পরীক্ষার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রশ্নপত্রে একাধিক গুরুতর ভুলের জেরে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছিল এনটিএ। গত রবিবার সেই ভুল প্রকাশ্যে স্বীকার করে পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় কেন্দ্রীয় সংস্থা। এরপরই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী মন্ত্রক ও এনটিএ আধিকারিকদের নিয়ে একটি জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন এবং অবিলম্বে কঠোর সংশোধনমূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দেন।
সেই নির্দেশের পরই পরীক্ষা পরিচালন টিমকে পুরোপুরি পুনর্গঠন করা হয়েছে। প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ করতে প্রায় ৬০০ জন পুরনো বিষয় বিশেষজ্ঞকে বাদ দিয়ে নতুন অভিজ্ঞ দল আনা হচ্ছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র যাচাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি চারস্তরীয় ব্যবস্থা চালুর কথা জানানো হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ২৫ জন নতুন আধিকারিককে নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি সাইবার সিকিউরিটি এবং সাইকোমেট্রির মতো বিশেষ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারে সিআইএসএফ ও দপ্তর পরিবর্তন
শুধু অভ্যন্তরীণ কর্মী ছাঁটাই বা বিশেষজ্ঞ বদলেই থেমে থাকছে না এনটিএ। সংস্থার পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে দিল্লির ওখলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের বর্তমান দপ্তর পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ নতুন ঠিকানায় অফিস স্থানান্তরের কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, নতুন কার্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটোসাঁটো করতে সেখানে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্সের (CISF) জওয়ানদের মোতায়েন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরেই নিট ইউজি-র প্রশ্নফাঁস এবং অন্যান্য অনিয়ম নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয়েছিল কেন্দ্রকে। সেই জেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নীলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। তারপর থেকেই এনটিএ-র অভ্যন্তরীণ কাঠামো সংস্কারের কাজ জোরকদমে চলছে। ইতিমধ্যেই ৫০ জনের বেশি কর্মীকে তাঁদের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি চিফ টেকনোলজি অফিসার (CTO) এবং চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার (CISO)-সহ ১০টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন করে নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে।
আগামী ৯ এবং ১০ সেপ্টেম্বর ইউজিসি-নেট পরীক্ষাগুলি পুনরায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে এনটিএ-র এই ঝাঁঝালো অভ্যন্তরীণ সংস্কার পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে কতটা ভরসা জোগাতে পারে, এখন সেটাই দেখার।