বর্ষায় জমা জলে গাড়ি চালাচ্ছেন? এই একটা ভুল করলেই মেরামতিতে পকেট ফাঁকা হবে হাজার হাজার টাকায়!

বর্ষা মানেই শহরের রাস্তায় জল জমে এক নিত্যদিনের চেনা দৃশ্য। জমে থাকা সেই জলের বুক চিরে সাবধানে গাড়ি চালিয়ে গন্তব্যে পৌঁছনোটাই তখন চালকদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই সময়ে অনেকেই না বুঝে গাড়ির এয়ার কন্ডিশনার বা এসি অন করে রাখেন, যা অজান্তেই ডেকে আনতে পারে ইঞ্জিনের বড়সড় ক্ষতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলজমা রাস্তায় এসি চালিয়ে গাড়ি চালানো মানেই বিপদকে স্বেচ্ছায় আমন্ত্রণ জানানো।

কেন জমা জলে এসি চালানো বিপজ্জনক?
গাড়ির এসি চালু থাকলে তার কুলিং ফ্যান অনবরত ঘুরতে থাকে। গাড়ি যখন জল জমে থাকা রাস্তা দিয়ে অতিক্রম করে, তখন সচল থাকা এই ফ্যানটি বাইরের জলকে ভেতরের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে ইঞ্জিনের এয়ার ইনটেক বা এয়ার ফিল্টারে জল ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ইঞ্জিনে জল প্রবেশ করলেই তৈরি হতে পারে ‘হাইড্রো লক’ (Hydro-lock) পরিস্থিতি। যার জেরে মাঝরাস্তাতেই গাড়ি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ছাড়া জমা জলের মধ্যে এসির ফ্যান দ্রুত ঘুরলে জলে ভেসে থাকা পলিথিন, ছোটখাটো প্লাস্টিক বর্জ্য বা অন্যান্য ময়লা ফ্যানের ব্লেডে জড়িয়ে ফ্যান ভেঙে যেতে পারে। এমনকি গাড়ির ইন্টারনাল ইলেকট্রিক্যাল সার্কিট ও রেডিয়েটরেরও ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে, যা মেরামতের খরচ এক ধাক্কায় আকাশছোঁয়া করে তুলতে পারে।

জলজমা রাস্তায় সঠিক করণীয় কী?
১. এসি সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করুন: রাস্তার জল গাড়ির চাকার উচ্চতা বা তার বেশি দেখলেই প্রথমেই গাড়ির এসি বন্ধ করে দিন।
২. উইন্ডশিল্ডের ধোঁয়াশা রোধে: বৃষ্টি ও জলকাদায় এসি বন্ধ করলে কাচ আবছা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেক্ষেত্রে এসি বন্ধ রেখেই গাড়ির ‘ডিফগার’ (Defogger) ব্যবহার করুন অথবা কাচ সামান্য নামিয়ে রাখুন।
৩. একটানা একই গিয়ারে চলুন: জলজমা রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ি প্রথম বা দ্বিতীয় গিয়ারে রেখে অ্যাক্সিলারেটরে সমান চাপ দিয়ে চলুন, যাতে এক্সজস্ট পাইপ দিয়ে ভেতরে জল ঢুকতে না পারে।

একটু সচেতনতা ও সঠিক সময়ে এসি বন্ধ রাখার ছোট অভ্যাসই বর্ষার মরশুমে আপনার সাধের গাড়িটিকে মেকানিকের হাজার হাজার টাকার বিল থেকে নিরাপদে রাখতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *