১১ সন্তানের মা হতে চেয়েছিলেন! কেন প্রাক্তনের বিষাক্ত টর্চারে ভেঙে গেল দক্ষিণীর অভিনেত্রীর সেই স্বপ্ন?

দক্ষিণী ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন রূপোলি পর্দায় এলেই অনুরাগীদের মনে আনন্দের জোয়ার আসে। কিন্তু সেই চিরচেনা হাসিমুখের আড়ালেই যে জমে ছিল পাহাড়প্রমাণ যন্ত্রণা, তা সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন অভিনেত্রী। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে অতীতের প্রেমের এক অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলতে গিয়ে ক্যামেরার সামনেই ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর দাবি, প্রাক্তন প্রেমিকের দেওয়া চরম মানসিক ট্রমা এবং বিষাক্ত নির্যাতন তাঁর গোটা জীবনটাই বদলে দিয়েছে।

সম্পর্কের সেই ভয়াল দিনগুলির কথা স্মরণ করে অনুপমা জানান, তাঁর পেশা অর্থাৎ অভিনয় জগৎ থেকে শুরু করে আত্মবিশ্বাস—প্রতিটি বিষয় নিয়েই তাঁকে প্রতিনিয়ত হীনমন্যতায় ভোগানো হতো। এমনকি মেয়েদের স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া পিরিয়ড নিয়েও তাঁকে বারবার অপমানজনক কথা শুনতে হতো সেই সঙ্গীর কাছে। অভিনেত্রীর কথায়, মাসের যে কোনো সময় তিনি যদি সঙ্গীর কোনো অন্যায় বা ভুলের প্রতিবাদ করতেন, সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর দিকে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে বলা হতো, “তোমার হয়তো পিরিয়ড চলছে, তাই এমন মেজাজ দেখাচ্ছ!” এই ধরনের ক্রমাগত মানসিক নিপীড়নের জেরে একসময় নিজের নারীত্ব এবং কেরিয়ারের সমস্ত সাফল্য নিয়েও তাঁর মনে লজ্জা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে তাঁর মাতৃত্বের স্বপ্ন ভাঙার কথা। আবেগঘন গলায় অনুপমা জানান, তিনি একসময় ভেবেছিলেন ১১টি সন্তানের মা হবেন এবং একটি বড় ও সুখী সংসার গড়বেন। কিন্তু সেই বিষাক্ত সম্পর্কের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পর তাঁর ভেতর থেকে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছেটাই চিরতরে চলে গেছে।

টানা দুই বছর ধরে এই ধরনের নার্সিসিস্টিক বা মানসিক অত্যাচারের মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী। যদিও তিনি সাক্ষাৎকারে সেই প্রাক্তন প্রেমিকের নাম সরাসরি প্রকাশ করেননি, তবে এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির পর নেটপাড়ায় জল্পনা ও চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। অতীতে অভিনেতা ধ্রুব বিক্রমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা গেলেও তা কখনই নিশ্চিত হয়নি। তবে অনুপমার এই সাহসী মুখ খুলতে বাধ্য হওয়া বর্তমান সমাজে সম্পর্কের গভীর ক্ষত এবং মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে এক বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *