পালাবদলের ধাক্কা সামলে বার কাউন্সিলেও কি জোড়াফুলের জয়জয়কার? প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর ভোটের ফলাফল

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সাড়ে তিন মাস পর অবশেষে প্রকাশ্যে এল পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের নির্বাচনের ফলাফল। রাজ্য রাজনীতিতে যখন নানা জল্পনা চলছে এবং শাসক শিবির নানা অভ্যন্তরীণ সমীকরণের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে বার কাউন্সিলের এই ফল নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। তবে এই ভোটগ্রহণ সাম্প্রতিক পালাবদলের ঠিক পরপর হয়নি, বরং পরিবর্তনের আগেই ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। মঙ্গলবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের মোট ২৩টি আসনের মধ্যে একাই ১৫টি আসনে জয়লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিজেপি পেয়েছে ৩টি আসন। এছাড়া বামেরা ৩টি এবং কংগ্রেস সমর্থিত প্রার্থীরা ২টি আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৫টি আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছে ৪টিতে এবং বাকি একটি আসনে জয়ী হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী।

জানা গেছে, আজ থেকে প্রায় ছমাস আগে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কাউন্সিলের ২৩টি আসনের জন্য মোট ৭৫ জন আইনজীবী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এর মধ্যে পুরুষ প্রার্থীদের জন্য ১৮টি এবং মহিলা প্রার্থীদের জন্য ৫টি আসন সংরক্ষিত ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী এই নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা ছিল। সেইমতো মাস ছয়েক আগে ভোটগ্রহণ পর্ব মিটে গেলেও শীর্ষ আদালতের গঠিত বিশেষ কমিটি এতদিন পর ভোট গণনা শেষ করে ফলাফল প্রকাশ করল।
উইকিপিডিয়া

তৃণমূলের বিজয়ী প্রার্থীদের তালিকায় বেশ কিছু পরিচিত মুখ রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কাউন্সিলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক অশোক কুমার দেব এবং কালীঘাটপন্থী বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে, বাম শিবিরের জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম হলেন আইনজীবী শামিম আহমেদ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, যখন ভোটগ্রহণ হয়েছিল তখন রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে এবং আগের শাসকদল বিরোধী শিবিরে চলে গেছে। এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বার কাউন্সিলের নির্বাচনে তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও, আগামী দিনে কে বা কারা এই বোর্ডের প্রকৃত দায়িত্ব নেবে এবং বোর্ড গঠন হবে, তা নিয়ে এখন থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়ে গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *