স্বাস্থ্যসাথীর দিন শেষ! আড়াই কোটি পরিবারকে বিনামূল্যে চিকিৎসার বাম্পার উপহার, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল দেশের ও রাজ্যের দুটি মেগা স্বাস্থ্য প্রকল্প— ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে উপস্থিত থেকে এই দুই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং এর আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধাগুলির বিস্তারিত দিক তুলে ধরেন।
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হাঁটু ও হিপ প্রতিস্থাপন
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অতীতে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের আওতায় যেসব রোগের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার সম্ভব হতো না, নতুন এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে। বিশেষ করে, হাঁটু এবং হিপ (Hip) প্রতিস্থাপনের মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারও এবার গরিব ও সাধারণ মানুষ এক পয়সাও খরচ না করে করাতে পারবেন।
কত লক্ষ পরিবার উপকৃত হবে?
রাজ্যের মোট ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সরাসরি সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, বাকি যে সমস্ত পরিবার এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবে, সেই প্রায় ৮০ লক্ষ পরিবারকে যুক্ত করা হয়েছে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’-র সঙ্গে। সবমিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ পরিবার এই দ্বৈত স্বাস্থ্য সুরক্ষার সুফল ভোগ করবে।
১৯৫০টি রোগ ও দেশজুড়ে চিকিৎসার সুযোগ
আগের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে যেখানে ১৭০০টি রোগের চিকিৎসার সুযোগ ছিল, নতুন এই দুই প্রকল্পে সেই পরিধি বাড়িয়ে ১৯৫০টি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একাধিক জটিল ও কঠিন রোগ। সবচেয়ে বড় কথা, এই সুবিধা কেবল রাজ্যের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যের পাশাপাশি দেশের প্রায় ৩৮ হাজার ৬০৪টি হাসপাতালে এই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা করানো যাবে। অর্থাৎ, রাজ্যের বাইরে অন্য কোনো রাজ্যে গিয়েও রোগীরা বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
হাসপাতাল ও সস্তা ওষুধের পরিকাঠামো
রাজ্যজুড়ে চিকিৎসার পরিধি বাড়াতে এবার থেকে ১২৪০টি বেসরকারি এবং ৬২৭টি সরকারি হাসপাতালে এই দুই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে। উল্লেখ্য, পূর্বে স্বাস্থ্যসাথীর অধীনে সব মিলিয়ে মাত্র ১৫০০টি হাসপাতাল নথিভুক্ত ছিল। পাশাপাশি, সুলভে ওষুধ পাওয়ার পথ সুগম করতে এদিন একযোগে ১০০টি অমৃত ফার্মেসি এবং ৪৬৭টি প্রধানমন্ত্রী জনঔষধি কেন্দ্র চালুর বিষয়েও চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রামকৃষ্ণ মিশন পরিচালিত হাসপাতালসহ বিভিন্ন নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে এই পরিষেবা আরও দ্রুত এবং মসৃণভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়।