ভারত-ইজরায়েল বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায়! নেতানিয়াহুর শুভেচ্ছা বার্তার কী জবাব দিলেন মোদী?

ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পাঠানো উষ্ণ শুভেচ্ছাবার্তার জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই উপলক্ষে দুই দেশের মধ্যে চলা বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব আগামী দিনে আরও মজবুত হবে বলে দৃঢ় আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি।

শনিবার ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি বার্তা পাঠান ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। এক্স হ্যান্ডেলে করা সেই পোস্টে দুই দেশের বন্ধুত্বকে ‘সীমাহীন’ বলে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। তিনি লেখেন যে ভারত এবং ইজরায়েল—এই দুই প্রাচীন দেশ তাদের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে। এই শুভেচ্ছার জবাবে রবিবার প্রধানমন্ত্রী মোদী সামাজিক মাধ্যমে লেখেন যে এই বিশেষ অংশীদারিত্ব দুই দেশের মানুষের যোগাযোগকে আরও গভীর করার পাশাপাশি নতুন নতুন সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে। এর আগে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগের পাঠানো বার্তার জন্যও তাঁকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

দুই দেশের এই কূটনৈতিক সখ্যতার মূলে রয়েছে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। চলতি বছরের ২৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সেই রাষ্ট্রীয় সফরে তাঁর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিল। ২০১৭ সালে মোদীর ঐতিহাসিক ইজরায়েল সফর এবং ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফরের স্মৃতিচারণ করে দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন। এই আলোচনার পর দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে উভয় দেশ। ইজরায়েল যেখানে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের একটি বিশ্বমানের কেন্দ্র, সেখানে ভারত প্রতিভা ও উৎপাদনের এক বিশাল শক্তির উৎস। দুই নেতার মতে, এই দুই দেশের ক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, জৈবপ্রযুক্তি, কৃষি, প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ গবেষণার মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রগুলিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাঁরা। এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভারতের ‘আত্মনির্ভর ও বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর স্বপ্নকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *