এআই-এর দাপটে ফের রক্তক্ষরণ আইটি সেক্টরে! ওরাকলের পরবর্তী ধাক্কা থেকে বাঁচবেন তো?

টেকনোলজি দুনিয়ায় ফের বড়সড় কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আইটি সংস্থা ওরাকল খুব শীঘ্রই নতুন করে কর্মী ছাঁটাই করতে পারে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে। গত মার্চ মাসেও এমন একটি ছাঁটাই পর্বে প্রায় ১০,০০০ কর্মী চাকরি হারিয়েছিলেন। সূত্রের খবর, এবারেও আগের মতো ১ সেপ্টেম্বরের আগেই কর্মীদের ইনবক্সে ছাঁটাইয়ের মেল ঢুকে যেতে পারে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে ওরাকলের ছাঁটাই মেলটি এসেছিল সকাল ছ’টারও আগে। ঘুম ভাঙার পর কর্মীরা জানতে পেরেছিলেন যে তাঁদের পদটি আর রাখা হচ্ছে না এবং সেই মুহূর্তেই তাঁদের অফিসিয়াল সিস্টেমের অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। চলতি বছরে এর আগেই প্রায় ২১,০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে সংস্থাটি। এর ফলে ওরাকলের মোট কর্মী সংখ্যা ১ লক্ষ ৬২ হাজার থেকে কমে বর্তমানে ১ লক্ষ ৪১ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। বিজনেস ইনসাইডারের তথ্য উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানিয়েছে, এই দফায় কোন কোন বিভাগ থেকে ঠিক কত শতাংশ কর্মী ছাঁটাই হবে, তা নির্ধারণ করতে ম্যানেজারদের কাছে কর্মীদের পারফরম্যান্স রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।

মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির কারণেই এই ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে ওরাকল। সংস্থার প্রকাশিত আর্থিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবর্ষে পরিকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৫৫.৭ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে তারা। যার সিংহভাগই ব্যয় করা হয়েছে এআই এবং ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচারের পেছনে। বিপুল পরিমাণ এই খরচ সামাল দিতেই কর্মী সংকোচনের মাধ্যমে পরিচালন ব্যয় কমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ম্যানেজমেন্ট।

অবশ্য ছাঁটাইয়ের এই জল্পনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত ওরাকলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি। একা ওরাকল নয়, এর আগে মেটা, অ্যামাজন, মাইক্রোসফট এবং গুগল ক্লাউডের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থগুলিও এআই নির্ভর প্রযুক্তির কারণে কর্মী সংখ্যা কমিয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আইটি সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *