বাঙালিয়ানায় হঠাৎ এই পরিবর্তন কেন? শ্রাবণে বাঙালি মহিলাদের হাতে সবুজ চুড়ি ওঠার নেপথ্যে কোন রহস্য?

শ্রাবণ মাস মানেই দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার এই পুজোর ছবিতে এসেছে বড় বদল। উত্তর ভারত ও পশ্চিম ভারতের শৈব সংস্কৃতির প্রভাবে গত কয়েক বছরে বাঙালি সমাজে আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র বা গুজরাতের মতো রাজ্যগুলির দেখাদেহি এখন বাঙালি রমণীরাও শ্রাবণ মাস জুড়ে শিব বন্দনায় মেতে উঠছেন। শুধুই উপাসনা বা ব্রত পালন নয়, উত্তর ভারতীয় উপাচার মেনে বাঙালি মহিলাদের হাতে উঠছে সবুজ কাচের চুড়ি এবং অনেকেই এই মাসে সবুজ পোশাকে অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। কীভাবে বাংলার সংস্কৃতিতে শিকড় গাড়ল উত্তর ভারতের এই নতুন রীতি, তার তত্ত্বতালাশ চালিয়েছে ইটিভি ভারত।
শাস্ত্র ও জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে, শ্রাবণ মাস আত্মসংযম, আধ্যাত্মিক শুদ্ধি এবং দেবাদিদেবের পুজোর জন্য বিশেষভাবে চিহ্নিত। জ্যোতিষীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসে সবুজ চুড়ি পরা মানে সৌভাগ্যকে আহ্বান করা। এটি বিবাহিত নারীর দাম্পত্য সুখ ও স্বামীর দীর্ঘায়ুর প্রতীক। পাশাপাশি, অবিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রেও এটি শুভ বিবাহের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। সবুজ রঙ ইতিবাচক শক্তি বহন করে মনকে শান্ত রাখে এবং হতাশা দূর করে।
পূর্বে বাংলার বাঙালি মহিলারা মূলত শিবরাত্রির দিন জাঁকজমক করে মহাদেবের পুজো করতেন। কিন্তু বর্তমানে তারকেশ্বর থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ডের শিবগাদি—সর্বত্রই শিবভক্ত বাঙালি নারী ও পুরুষদের ঢল নামছে। মালদা শহরের পিরোজপুর এলাকার বাসিন্দা শিপ্রা চট্টোপাধ্যায় বা রুম্পা গোস্বামীদের মতো বহু ভক্তের মতে, দেবী পার্বতীর সবুজ রং অত্যন্ত প্রিয়। পার্বতী সবুজ চুড়ি ও বস্ত্র পরে মহাদেবকে খুশি করতেন, আর সেই বিশ্বাস থেকেই বাঙালি মহিলারাও এখন শ্রাবণ মাসে দু’হাতে সবুজ চুড়ি পরে ভোলানাথের আরাধনা করছেন। কর্মসূত্রে মালদায় বসবাসকারী বিহারের বাসিন্দা রূপা কুমারীর মতো অনেকে মনে করেন, স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনা এবং সংসারের মঙ্গলার্থেই এই প্রথা এখন দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধনে বাংলায় দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।