কুকুর তো দূর, বিড়াল পুষলেও দিতে হবে লাইসেন্স! লখনউ প্রশাসনের নতুন নিয়মে মাথায় হাত পোষ্যপ্রেমীদের

লখনউতে পোষা কুকুর এবং বিড়ালের মালিকদের জন্য নিয়মকানুন এখন আরও কঠোর করা হয়েছে। সম্প্রতি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ‘পোষা প্রাণীর লাইসেন্স, নিয়ন্ত্রণ ও প্রবিধান উপ-আইন’ গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০০৩ সালের পর পোষা প্রাণী সংক্রান্ত নিয়মে এটিই প্রথম সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।
এতদিন পর্যন্ত লাইসেন্সিং ব্যবস্থা মূলত কুকুরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এই প্রথমবার বিড়ালকেও এর আওতায় আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারতীয় জাতের কুকুরের জন্য বার্ষিক লাইসেন্স ফি ২০০ টাকা এবং বিদেশি জাতের কুকুরের ক্ষেত্রে এই ফি ১,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশি বা বিদেশি বিড়ালের জন্য বার্ষিক লাইসেন্স ফি ধার্য করা হয়েছে ৫০০ টাকা।
নিয়ম অমান্য করলে বা লাইসেন্স নিতে ব্যর্থ হলে পৌরসভার পক্ষ থেকে কঠোর আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া পোষা প্রাণী রাখলে দেশি বা বিদেশি জাতের কুকুরের জন্য ৫,০০০ টাকা এবং বিড়ালের জন্য ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এমনকি নোটিশ পাওয়ার পরেও লাইসেন্স নবায়ন না করলে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে।
শুধু ফি বা লাইসেন্স নয়, পোষা প্রাণীদের জনসমক্ষে সুরক্ষার দায়িত্বও বাড়ানো হয়েছে মালিকদের ওপর। রাস্তা, পার্ক বা অন্য কোনো জনস্থানে কুকুর ও বিড়ালকে মালিকবিহীন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পোষা প্রাণীর নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচ্ছন্নতার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে মালিককে। এই নিয়ম ভাঙলে লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে পৌরসভা।
এছাড়াও, বাড়ির আয়তনের ওপর ভিত্তি করে ঘরে কতগুলি কুকুর রাখা যাবে, তারও সুনির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ২০০ বর্গমিটার পর্যন্ত আয়তনের বাড়িতে সর্বোচ্চ দুটি এবং ৩০০ বর্গমিটার পর্যন্ত বাড়িতে সর্বোচ্চ চারটি কুকুর রাখা যাবে। এর বেশি কুকুর রাখতে হলে তাদের জন্য শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং পোষ্যদের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতেই এই অভিনব ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন।