মাত্র ৫০ মিনিটে গাজিয়াবাদ থেকে সোজা জেওয়ার বিমানবন্দর! যাতায়াত সহজ করতে বিরাট মাস্টারপ্ল্যান এনসিআরটিসির

নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেওয়ার)-এ যাতায়াতকে আরও দ্রুত, সহজ এবং সুবিধাজনক করে তুলতে এক বিশাল মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়ন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন বা এনসিআরটিসি (NCRTC) গাজিয়াবাদ এবং জেওয়ার বিমানবন্দরের মধ্যে প্রস্তাবিত ‘নমো ভারত র‍্যাপিড রেল করিডোর’ (RRTS)-এর উপর একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন বা ডিপিআর (DPR) তৈরি করেছে। এই ৭২.৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোরটিতে যুগপৎ আঞ্চলিক র‍্যাপিড ট্রেন অর্থাৎ ‘নমো ভারত’ এবং স্থানীয় মেট্রো পরিষেবা উভয়ই চালিত হবে। এর ফলে গাজিয়াবাদ, গ্রেটার নয়ডা, নয়ডা এবং জেওয়ার বিমানবন্দর সরাসরি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হবে।

এনসিআরটিসি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন করিডোরটি বর্তমানের দিল্লি-গাজিয়াবাদ-মিরাট নমো ভারত করিডোরের গাজিয়াবাদ স্টেশন থেকে শুরু হয়ে সোজা জেওয়ারে অবস্থিত নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য ও রুট বিন্যাস
মোট দৈর্ঘ্য: ৭২.৪৪ কিলোমিটার

উচ্চ অংশ: ৭১.৫ কিলোমিটার (যা উড়ালপুল বা ভায়াডাক্টের ওপর নির্মিত হবে)

ভূগর্ভস্থ অংশ: ১.২৯ কিলোমিটার

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বিশেষ রুটে নমো ভারত এবং মেট্রো একই ট্র্যাকে চলাচল করবে। এই দীর্ঘ রুটে মোট ২৯টি স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি স্টেশন নির্ধারিত হয়েছে ‘নমো ভারত’ (র‍্যাপিড রেল) পরিষেবার জন্য এবং বাকি ১৮টি স্টেশন হবে স্থানীয় ‘মেট্রো’ পরিষেবার জন্য। এর ফলে দিল্লি-এনসিআর এলাকার যাত্রীরা যেমন দ্রুত দূরপাল্লার যাতায়াত করতে পারবেন, তেমনই স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হবে।

১১টি নমো ভারত (আরআরটিএস) স্টেশন:
গাজিয়াবাদ দক্ষিণ, গ্রেটার নয়ডা সেক্টর-২, গ্রেটার নয়ডা সেক্টর-৩, গ্রেটার নয়ডা সেক্টর-১২, সুরজপুর, আলফা-১, ইকোটেক-৬, দানকৌর, YIDA উত্তর (সেক্টর-১৮), YEIDA সেন্ট্রাল (সেক্টর-২১) এবং নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

১৮টি স্থানীয় মেট্রো স্টেশন:
সিদ্ধার্থ বিহার, গ্রেটার নয়ডা সেক্টর ১৬সি, ইকোটেক ১২, গ্রেটার নয়ডা পশ্চিম (সেক্টর-৪), গ্রেটার নয়ডা সেক্টর-১০, নলেজ পার্ক ৫, পুলিশ লাইনস সুরজপুর, ইকোটেক-২, নলেজ পার্ক-৩, ওমেগা-২, ফাই-৩, ইকোটেক-১ই, ইকোটেক-৮, দাদুপুর, জুনেদপুর, ওয়াইইআইডিএ সেক্টর-১৭, ওয়াইইআইডিএ সেক্টর-১৫ এবং ওয়াইইআইডিএ সেক্টর-৩৩।

মাত্র ৪০ থেকে ৫০ মিনিটে গাজিয়াবাদ থেকে জেওয়ার
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই করিডোরে চলাচলকারী ট্রেনগুলির সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৮০ কিলোমিটার। এর ফলে গাজিয়াবাদ থেকে জেওয়ার বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ৭২ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ পথ মাত্র ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যেই অতিক্রম করা সম্ভব হবে। বর্তমানে প্রকল্পটি ডিপিআর পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে রুট, স্টেশন এবং অন্যান্য কারিগরি দিকগুলি খতিয়ে দেখে সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।

দিল্লি-গুরুগ্রাম-বাওয়াল করিডোরের সম্প্রসারণ
এর পাশাপাশি দিল্লি-এনসিআর যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। এনসিআর পরিকল্পনা কমিটি দিল্লির সরাই কালে খান থেকে বাওয়াল এবং সেখান থেকে আরও এগিয়ে রাজস্থানের বেহরোর পর্যন্ত গুরুগ্রাম-বাওয়াল নমো ভারত করিডোর সম্প্রসারণের অনুমোদন দিয়েছে। বাওয়াল থেকে বেহরোর পর্যন্ত অতিরিক্ত ৩৬ কিলোমিটারের এই নতুন অংশে ৪টি নতুন স্টেশন তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা এই ৩৬ কিলোমিটারের পথ মাত্র ২৪ মিনিটে পার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *