বিয়ের পরেই কনেকে নিয়ে সোজা দার্জিলিংয়ে হানিমুন! তবে শাহরুখের সেই মধুচন্দ্রিমা নিয়ে কোন চমকপ্রদ তথ্য ফাঁস করলেন প্রযোজক?

বলিউডের অন্যতম চর্চিত ও প্রভাবশালী ‘পাওয়ার কাপল’ শাহরুখ খান এবং গৌরী খান। দেখতে দেখতে বৈবাহিক জীবনের তিন দশক পার করে ফেললেও তাঁদের সম্পর্কের সমীকরণ আজও অনুরাগীদের কাছে অনুপ্রেরণা। কেরিয়ারের একদম শুরুর দিনগুলোতেই গৌরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন শাহরুখ— এ কথা অনেকেরই জানা। তবে খুব কম মানুষই জানেন, ‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’ ছবির শুটিং চলাকালীনই গাঁটছড়া বেঁধেছিলেন এই জুটি। আর তার চেয়েও চমকপ্রদ বিষয় হল, বিয়ের পর আলাদা করে নয়, বরং ছবির পুরো শুটিং টিমকে সঙ্গে নিয়েই দার্জিলিংয়ে মধুচন্দ্রিমা কাটাতে গিয়েছিলেন নবদম্পতি! জানা যায়, দার্জিলিঙে ‘দ্য এলগিন হোটেল’-এ মধুচন্দ্রিমা কাটিয়েছিলেন শাহরুখ ও গৌরী। তবে কিং খানের সেই হানিমুনের গল্পে রয়েছে এক দারুণ টুইস্ট!
শুটিং আর হানিমুন একসঙ্গে!
এটি কোনো সাধারণ মধুচন্দ্রিমা ছিল না; বলা ভালো, শুটিং আর হানিমুন একসঙ্গেই চালিয়েছিলেন শাহরুখ। পুরনো সেই মধুর স্মৃতি রোমন্থন করে ছবির অন্যতম প্রযোজক তথা অভিনেতা বিবেক ভাসওয়ানি এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ দার্জিলিংয়ের একটি সুন্দর ছবি শেয়ার করেছিলেন। ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, “দার্জিলিংয়ে মধুচন্দ্রিমা, যখন ‘রাজু বন গ্যায়া জেন্টলম্যান’ ছবির প্রথম গানটির শুটিং চলছিল। আমরা দিল্লিতে গেলাম, ওখানেই ওর বিয়ে হল এবং কনেকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সরাসরি শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে দার্জিলিং পাড়ি দিলাম!”
প্রযোজকদের টাকায় হানিমুন ও রুম হিটার কাণ্ড
এদিকে, এক সাক্ষাৎকারে এই ছবির অন্যতম চিত্রনাট্যকার ও সহ-পরিচালক মনোজ লালওয়ানি প্রকাশ করেছিলেন আরেক মজার তথ্য। তিনি জানান, শাহরুখ ও গৌরীর সেই হানিমুনের যাবতীয় খরচ বহন করেছিল ছবির প্রোডাকশন টিম বা প্রযোজকরাই! পাহাড়ি শহরের কনকনে ঠান্ডার কথা মনে করে মনোজ বলেন, সেই সময় দার্জিলিংয়ে প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকলেও শাহরুখের ঘরে কোনো রুম হিটার ছিল না। শেষে মনোজ তাঁর নিজের ঘরের হিটারটি এই নবদম্পতিকে ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন।
১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রাজু বন গ্যায়া জেন্টলম্যান’ ছবিতে শাহরুখ খান ছাড়াও মূল ভূমিকায় নজর কেড়েছিলেন জুহি চাওলা, অমৃতা সিং এবং নানা পাটেকর। রাজ কাপুরের কালজয়ী সিনেমা ‘শ্রী ৪২০’-এর ছায়া অবলম্বনে তৈরি এই জনপ্রিয় ছবিটি শুধু শাহরুখের কেরিয়ারেই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের স্মৃতিতেও এক বিশেষ জায়গা জুড়ে রয়েছে।