প্লাস্টিক সার্জারি করে পরিচয় বদল! লখনউতে ধৃত আন্তর্জাতিক সেক্স র‍্যাকেটের উজবেক রানি

দীর্ঘ এক বছরের টানটান অনুসন্ধানের পর অবশেষে লখনউয়ে সক্রিয় আন্তর্জাতিক সেক্স র‍্যাকেটের মূল চক্রীকে গ্রেফতার করল যৌথ তদন্তকারী দল। গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB) এবং লখনউ পুলিশের যৌথ অভিযানে ধরা পড়েছেন উজবেকিস্তানের নাগরিক লোলা কায়ুমোভা (Lola Kayumova)। গত বছর থেকেই তিনি ফেরার ছিলেন। তাঁকে গ্রেফতারের পর লখনউ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত লোলা কেবল একটি অবৈধ চক্রই চালাতেন না, বরং নেপাল ও উজবেকিস্তান থেকে তরুণীদের পাচার করে এনে লখনউয়ের অভিজাত এলাকায় এই অসাধু কারবার ফেঁদেছিলেন।

অভিজাত ফ্ল্যাটে জালিয়াতি ও প্লাস্টিক সার্জারি কাণ্ড
তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাতে এই চক্রটি সম্পর্কে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উজবেকিস্তান ও নেপাল থেকে অনৈতিক উপায়ে তরুণীদের ভারতে নিয়ে আসা হতো। এরপর তাঁদের লখনউয়ের বিভিন্ন অভিজাত এলাকার ফ্ল্যাটে রেখে জোরপূর্বক যৌন ব্যবসায় নামানো হতো।

এই চক্রের সবচেয়ে মর্মান্তিক এবং চাঞ্চল্যকর দিকটি হলো— তরুণীদের আসল পরিচয় আড়াল করতে এবং তাঁদের চেহারা সম্পূর্ণ বদলে দিতে প্লাস্টিক সার্জারি করানো হতো। পেশাদার চিকিৎসকদের সাহায্য নিয়ে এই সার্জারি করানো হয়েছিল বলে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনো চিকিৎসক যুক্ত ছিলেন কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

গোপন বিয়ে ও লুকআউট নোটিস এড়ানোর ফন্দি
লোলা কায়ুমোভাকে নিয়ে রহস্যের জট খুলতে শুরু করে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে। সেই সময় ‘ফরেনার্স আঞ্চলিক রেজিস্ট্রেশন অফিস’ (FRRO)-এর একটি দল লখনউয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ঝটিকা অভিযান চালায়। ওই রেইডে হোলিদা ও নিলুফার নামের দুই বিদেশি তরুণীকে আটক করা হয়, যাঁরা লোলার সরাসরি সহযোগী ছিলেন।

এরপর থেকেই লোলার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। জানা গেছে, লোলার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে লুকআউট নোটিস জারি করা হয়েছিল। তবে সব চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি লখনউয়ে গোপনে এক ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করেন এবং ভুয়ো নথিপত্র তৈরি করে অবৈধভাবে শহরে বসবাস করতে শুরু করেন। সেখান থেকেই পুরো নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছিলেন তিনি।

শিকড় খুঁজছে গোয়েন্দারা
বর্তমানে লখনউ পুলিশ, আইবি এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে এই নেটওয়ার্কের গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তদন্তে উজবেকিস্তান ও নেপালের একাধিক পাচারকারী চক্রের সঙ্গে লোলার যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। কীভাবে ভুয়ো পাসপোর্ট এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে বিদেশি তরুণীদের ভারতে আনা হতো, তা জানতে লোলাকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই আন্তর্জাতিক র‍্যাকেটের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ভারতীয় ও বিদেশি সহযোগীদেরও খুব শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *