এয়ার ফোর্স ওয়ান ছেড়ে গোপনে অন্য বিমানে কেন উঠেছিলেন ট্রাম্প? মুখ খুলতেই ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য!

এয়ার ফোর্স ওয়ান নয়, বরং গোপনে অন্য বিমানে তুরস্কে যাতায়াত করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—গত কয়েক দিন ধরে চলা এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজেই মুখ খুললেন তিনি। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় এক বক্তব্যে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, সম্প্রতি তুরস্কের একটি শীর্ষ সম্মেলনের সময় নিরাপত্তাজনিত গুরুতর ‘হুমকি’র কারণেই তাঁকে এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে অন্য একটি বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, সিক্রেট সার্ভিস এবং মার্কিন সেনাবাহিনী তাঁকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে, তিনি ঠিক সেটাই মেনে চলেন।
বিমান বদলের নেপথ্য কাহিনী
এর আগে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, কাতারের উপহার দেওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমান থেকে ট্রাম্পকে প্রথমে পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু এরপর আরও একবার গোপনীয়তা রক্ষা করে তাঁকে একটি ক্যাটারিং কন্টেনারের আড়ালে বের করে ছোট C-32A বিমানে তোলা হয়। হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে এতদিন বিষয়টি নিয়ে পুরোপুরি নীরবতা বজায় রাখা হলেও, ওহাইও থেকে ফেরার পর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে নিজেই তা নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
‘আমার উপর অনেক হুমকি রয়েছে’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি সিক্রেট সার্ভিস এবং সেনাবাহিনীর পরামর্শ মেনে চলি। তাঁরা চেয়েছিলেন আমি অন্য একটি ফ্লাইটে যাই। আমি তাঁদের কথাই মেনে চলি। মনে হয়, সেখানে নির্দিষ্ট কোনো হুমকি ছিল। আমি বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি গভীরে যেতে চাইনি, কারণ আমার উপর সবসময়ই অনেক হুমকি থাকে।” তিনি আরও বলেন, এমন অনেক গোপন হুমকির কথা সাধারণ মানুষ জানতে পারেন না। নিজের আত্মবিশ্বাসী মনোভাব প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ নন, তাঁদের হুমকি দেওয়া হয় না। আর আমি মনে করি, সম্ভবত আমিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট। যাই হোক না কেন, আমার মনোভাব পরিষ্কার—যা হওয়ার তা-ই হবে।”
গোপনীয়তা ও বিভ্রান্তি তৈরির কৌশল
ট্রাম্পের এই দ্বিতীয়বার বিমান বদলের বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দা আধিকারিক ও সাংবাদিকদের বড় অংশের কাছেও সম্পূর্ণ অজানা ছিল। তুরস্ক থেকে ফেরার পথে বিমানে থাকা সাংবাদিকদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল জানালার পর্দা নামিয়ে রাখতে। পুরো প্রক্রিয়াটি এতই গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছিল যে, ট্রাম্প ছোট C-32A বিমানে ব্রিটেন যাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও, ব্রিটেনে পৌঁছানোর পর তাঁকে আবার সেই পুরনো বড় বোয়িং ৭৪৭ বিমান থেকেই নামতে দেখা যায়। ছোট বিমান থেকে কখন এবং কীভাবে তিনি পুনরায় বড় বিমানে ফিরেছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা আজও বজায় রয়েছে।