উচ্চ রক্তচাপের মূলে কি শুধু নুন? পাতে কাঁচা নুন বন্ধ করলেই কি প্রেশার কন্ট্রোলে আসবে? জানুন বিজ্ঞান কী বলছে

‘হাই ব্লাড প্রেশার’— এই নামটা শুনলেই সবার আগে মাথায় আসে খাবারে নুন কমানোর কথা। কিন্তু কেন এই নিয়ম? কেউ বলেন নুন খাওয়া একদম বন্ধ করে দিতে, আবার কেউ বলেন অল্পস্বল্প খাওয়া যেতেই পারে। আড্ডার পাতে এই নিয়ে তর্কের শেষ নেই। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণার দুনিয়ায় এই বিষয়ে রয়েছে স্পষ্ট নির্দেশিকা। প্রেশারের রোগীদের রোজ ঠিক কতটা নুন খাওয়া উচিত এবং এর আসল রহস্যই বা কী, তা জেনে নেওয়া যাক।
কী বলছে বিজ্ঞান ও গবেষণা?
নুন আর উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকরা বহু বছর ধরে গবেষণা করেছেন। ‘আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন’ (AHA)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ২,৩০০ মিলিগ্রামের বেশি সোডিয়াম খাওয়া উচিত নয়। তবে হাই ব্লাড প্রেশারের সমস্যা থাকলে আদর্শ লক্ষ্য হিসেবে সোডিয়ামের পরিমাণ কমিয়ে দিনে ১,৫০০ মিলিগ্রাম বা তার কম রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
হিসেব করলে দেখা যায়, ১,৫০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম প্রায় ৩.৮ গ্রাম নুনের সমান। অন্যদিকে, এক চা-চামচে প্রায় ২,৩০০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে। অর্থাৎ, প্রেশার থাকলে সারা দিনে নুনের পরিমাণ কমিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।
নুন কীভাবে শরীরের শত্রু হয়ে ওঠে?
বিজ্ঞানের ভাষায়, নুনের মূল উপাদান হলো সোডিয়াম। শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা কোষে জল আটকে রাখে। শরীরে জলের পরিমাণ বাড়লে রক্তনালীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়, যার ফলে রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়।
লুকিয়ে থাকা বিপদ থেকে সাবধান!
অনেকেই মনে করেন, ভাতের পাতে কাঁচা নুন খাওয়া বন্ধ করলেই বুঝি সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেল! কিন্তু আসল বিপদ লুকিয়ে থাকে অন্য জায়গায়। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুযায়ী, প্যাকেটজাত খাবার, চিপস, চানাচুর, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, সস বা আচার সংরক্ষণের জন্য তাতে প্রচুর সোডিয়াম ব্যবহার করা হয়। এগুলো খাওয়ার ফলে অজান্তেই শরীরে অতিরিক্ত নুন প্রবেশ করে। দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের ফলে যেমন প্রেশার বাড়ে, তেমনই হার্ট ও কিডনির স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়।
তাই সুস্থ থাকতে আজ থেকেই সচেতন হওয়া দরকার। বাজার থেকে কোনো প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে প্যাকেটের গায়ে লেখা সোডিয়ামের মাত্রা অবশ্যই দেখে নেওয়া উচিত। তবে নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী আপনার জন্য ঠিক কতটা নুন নিরাপদ, তা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।