টানা আতঙ্কের অবসান! ফালাকাটার চা বাগান থেকে খাঁচাবন্দি হলো বিশাল পুরুষ চিতাবাঘ, দেখতে উপচে পড়া ভিড়

টানা কয়েকদিনের চরম আতঙ্কের অবসান ঘটাল জলদাপাড়া বন দফতর। ফালাকাটার খাউচাঁদপাড়া এলাকার সুপ্রিয় চা বাগান থেকে অবশেষে খাঁচাবন্দি হলো একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ চিতাবাঘ। মঙ্গলবার গভীর রাতে বন দফতরের পাতা খাঁচায় ধরা পড়ে বাঘটি। বুধবার সকালে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে, পাশাপাশি বিপজ্জনক ওই বন্যপ্রাণীকে একনজর দেখতে চা বাগানে ভিড় জমান কৌতূহলী বহু মানুষ।
টোপ হিসেবে ছাগল, এভাবেই খাঁচাবন্দি
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই সুপ্রিয় চা বাগান ও সংলগ্ন এলাকায় চিতাবাঘটির অবাধ আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। যার জেরে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন চা বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রায় তিন দিন আগে জলদাপাড়া বন দফতরের পক্ষ থেকে বাগানের ভেতরে একটি লোহার খাঁচা বসানো হয়। খাঁচার ভিতরে টোপ হিসেবে রাখা হয়েছিল একটি ছাগলকে। মঙ্গলবার রাতে সেই টোপের লোভে খাঁচায় ঢুকে পড়ে চিতাবাঘটি। ভিতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে খাঁচার দরজা বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বন দফতরে খবর দেন।
সুস্থ থাকলে গভীর জঙ্গলে ছাড়বে বন দফতর
খবর চাউর হতেই বুধবার সকাল থেকেই সুপ্রিয় চা বাগানে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন জলদাপাড়া বন দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা। বন দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া চিতাবাঘটি একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ। প্রথমে চিকিৎসকদের দিয়ে তার শারীরিক পরীক্ষা করানো হবে। বাঘটি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের গভীর জঙ্গলে নিরাপদ আশ্রয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। এই ঘটনায় আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন খাউচাঁদপাড়া ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।
হিমাচল প্রদেশের ধৌলাধারে ক্যামেরাবন্দি ‘পাহাড়ের ভূত’
এদিকে ফালাকাটার পাশাপাশি বন্যপ্রাণপ্রেমীদের নজর কেড়েছে হিমাচল প্রদেশের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সম্প্রতি হিমাচল প্রদেশের ধৌলাধার বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যে প্রথমবারের মতো ক্যামেরায় ধরা পড়েছে দুর্লভ তুষার চিতার ছবি। অভয়ারণ্যের সরকারি লোগোতে এতদিন তুষার চিতার ছবি দেখা গেলেও চোখের সামনে তার উপস্থিতি নিয়ে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। বিশ্বের অন্যতম দুর্লভ এই প্রাণীকে ‘Ghost of the Mountains’ বা ‘পাহাড়ের ভূত’ বলা হয়, কারণ এরা লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতেই ভালোবাসে। বরফে ঢাকা পাহাড়ের রঙের সঙ্গে তাদের গায়ের রং এমনভাবে মিশে থাকে যে তাদের খালি চোখে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।