অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য! ভোরে চেন্নাইয়ের বাড়ি থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার উদয়নিধি স্টালিন!

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন চরম উত্তাল পরিস্থিতি। কাবেরী জলবণ্টন নিয়ে প্রতিবাদ সভা আর তা থেকে সোজা পুলিশি অভিযোগ—খাস চেন্নাইয়ের নীলঙ্কারাইয়ের বাসভবন থেকে ভোরে নাটকীয়ভাবে ডিএমকে নেতা তথা বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্টালিনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। একটি রাজনৈতিক জনসভায় জনপ্রিয় দক্ষিণী অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণণকে নিয়ে তাঁর করা একটি বিতর্কিত মন্তব্যই ডেকে এনেছে এই চরম বিপর্যয়।

ঠিক কী ঘটেছিল তানজাবুরের সভায়?
ঘটনার সূত্রপাত তামিলনাড়ুর তানজাবুরে। কাবেরী জলবণ্টন বিতর্ক এবং কর্ণাটকের মেকেদাতু প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত ডিএমকের একটি প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন উদয়নিধি। তিনি যখন তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব, তখনই হঠাৎ ভিড় থেকে সমস্বরে ভেসে আসে দক্ষিণী অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণণের নাম।

জনতার মুখ থেকে তৃষার নাম শোনা মাত্রই থামেন উদয়নিধি। এরপর তিনি মাইক্রোফোনে এমন এক মন্তব্য করেন, যা রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি সাফাই দেন যে, তিনি কেবল ‘কাবেরী নদীর জল’-এর কথাই বোঝাচ্ছিলেন, তবুও সমালোচকদের একাংশের মতে, তৃষার নামের ঠিক পরের ওই মন্তব্যটি স্পষ্টতই একটি পরোক্ষ ও কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছিল।

রাজনীতির ময়দানে ঝড় ও আইনি পদক্ষেপ:
চলচ্চিত্র দুনিয়ায় দীর্ঘ দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজত্ব করছেন তৃষা কৃষ্ণণ। বর্তমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা অভিনেতা বিজয়ের সঙ্গে তাঁর পর্দার রসায়ন ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে নানা গুঞ্জন রয়েছে। ঠিক এই সমীকরণের মাঝেই উদয়নিধির মুখ থেকে এমন মন্তব্য বেরিয়ে আসায় ফুঁসে ওঠে রাজনৈতিক মহল।

প্রতিবাদ ও এফআইআর: শাসক দল থেকে শুরু করে বিজেপি ও কংগ্রেস—সকলেই উদয়নিধির এই ভাষার তীব্র নিন্দা করে নিঃশর্ত ক্ষমার দাবি তোলে। বিষয়টি জাতীয় মহিলা কমিশন পর্যন্ত গড়ায়। একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের হওয়ার পর তানজাবুর ও চেন্নাই পুলিশের যৌথ টিম ৪ আগস্ট সকালে উদয়নিধির বাসভবনে হানা দেয়।

গ্রেফতার ও জামিন: পুলিশ ভ্যানে করে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ডিএমকে কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে চারপাশ। সেনগিপাত্তি পুলিশ স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ জেরার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। তবে আইনি লড়াইয়ে দ্রুত মাদ্রাজ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন উদয়নিধির আইনজীবীরা। আদালতের নির্দেশে জিজ্ঞাসাবাদ সাপেক্ষে তাঁকে স্টেশন জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, উদয়নিধি স্টালিনের দাবি, তাঁর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ বিকৃত করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে। সবমিলিয়ে, কাবেরী নদীর জল নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন রাজনৈতিক ময়দান পেরিয়ে এক তুলকালাম আইনি এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *