নখের ওই ছোট ‘সাদা চাঁদ’ আসলে কীসের সংকেত দেয় জানেন? লুকিয়ে রয়েছে হার্ট ও কিডনির বড় রহস্য!

ছোটবেলায় নিজের হাত উল্টে নখে থাকা সাদা দাগ বা আধখানা চাঁদ গুনে কে ভাগ্যবান তা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার! কেউ ভেবেছেন এর মধ্যে অলৌকিক কিছু আছে, আবার কেউবা ভেবেছেন নতুন কোনো শক্তি তৈরি হচ্ছে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুল ভাঙে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় নখের গোড়ার এই ছোট্ট সুন্দর অংশটির নাম ‘লুনুলা’ (Lunula)। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মানসি নিগম সামনে এনেছেন এর আসল সত্য, যা জানলে চমকে উঠবেন। সাধারণ দেখতে এই আধখানা চাঁদই আসলে বলে দিতে পারে আপনার শরীরের ভেতরের নানা বড় বড় অঙ্গের হালহকিকত!
লুনুলা বা নখের চাঁদ কি সবার থাকে?
চিকিৎসকদের মতে, নখে এমন সাদা আধখানা দাগ থাকাটা একদমই স্বাভাবিক বিষয়। কারও আঙুলে এটি খুব স্পষ্টভাবে চকচক করে, আবার কারও নখে লুনুলা এতটাই ছোট থাকে যে খালি চোখে দেখাই যায় না। তাই নখে এই চাঁদ স্পষ্ট না দেখতে পেলে একেবারেই ঘাবড়ে যাওয়ার বা ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এর অর্থ এই নয় যে আপনি অসুস্থ, শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকতে পারে!
তাহলে চিন্তার আসল কারণ কোনটা?
ভয় বা চিন্তার আসল বিষয় শুরু হয় তখন, যখন কোনো মানুষের নখে এতদিন এই চাঁদটি পরিষ্কার দেখা যেত, কিন্তু হঠাৎ করে সেটি ছোট হতে হতে মিলিয়ে গেল কিংবা তার রং অদ্ভুতভাবে বদলে গেল।
কিডনি ও হার্টের সমস্যা: বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁদের দীর্ঘদিন ধরে কিডনির গুরুতর সমস্যা রয়েছে, তাঁদের শরীরে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। পর্যাপ্ত রক্ত না পৌঁছালে নখের বৃদ্ধির ওপর প্রভাব পড়ে এবং ওই সাদা অংশটি আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে শুরু করে। ঠিক একই ঘটনা ঘটতে পারে হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রেও।
অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা: অ্যানিমিয়া বা রক্তের অভাব, থাইরয়েড কিংবা অনিয়ন্ত্রিত সুগার থাকলেও নখের এই লুনুলার রূপ বদলাতে দেখা যায়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি?
ডাক্তার মানসি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, কেবল নখের চেহারা দেখেই নিজে নিজে কোনো বড় রোগের সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তবে নখের রঙের বা আকারের বদলের সঙ্গে যদি কিছু শারীরিক লক্ষণ দেখা যায়, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। যেমন:
পা ফুলে যাওয়া।
বুক ধড়ফড় করা।
সামান্য হাঁটাচলাতেই দম আটকে আসা।
কোনো কারণ ছাড়াই মারাত্মক ক্লান্তি বা দুর্বলতা গ্রাস করা।
এমন উপসর্গগুলো দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নখের দিকে নজর রাখা ভালো, তবে অকারণ আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।