UPI পেমেন্ট কি আর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকছে না? বড়সড় পরিবর্তনের পথে কেন্দ্র!

দেশে হু হু করে বাড়ছে ইউপিআই (UPI) পেমেন্টের ব্যবহার। আধুনিক ও দ্রুতগতির এই লেনদেন ব্যবস্থার কারণে আজ বড় বড় শপিং মল থেকে শুরু করে পাড়ার ছোট দোকানদার—সকলেই ভরসা রাখছেন ইউপিআই-এর ওপর। তবে ডিজিটাল পেমেন্টের এই জনপ্রিয় জয়যাত্রার পথে এবার বড়সড় মোড় আসতে চলেছে। জানা যাচ্ছে, সংসদের ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট’-এ সংশোধনী আনার প্রস্তাব করেছে কেন্দ্র। এর জেরে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কিছু ইউপিআই লেনদেনের ওপর মার্চেন্ট চার্জ আরোপ করা হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ছে না কোনো চার্জ

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের আনা এই আইনি পরিবর্তনের ফলে এখনই ইউপিআই লেনদেনের ওপর কোনো অতিরিক্ত চার্জ বা ফি বসছে না। মূলত একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি করাই এর লক্ষ্য, যার মাধ্যমে সরকার আগামী দিনে প্রয়োজনে এমডিআর (MDR) বা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবে। ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরও উন্নত ও টেকসই করতে দীর্ঘদিন ধরেই পেমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হচ্ছিল।

রয়টার্সের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ঠিক কীভাবে এই ফি কার্যকর করা যেতে পারে, এর হার কত হবে কিংবা কোন কোন নির্দিষ্ট লেনদেনের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে—তা নিয়ে বর্তমানে সরকারি আধিকারিকদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।

কাদের দিতে হতে পারে এই চার্জ?

চার্জ লাগু করার বিষয়ে যে সমস্ত প্রস্তাব এই মুহূর্তে সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো— ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনের ওপর ০.৩% থেকে ০.৫% এমডিআর (MDR) আরোপ করা।

তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই চার্জটি শুধুমাত্র সেই সমস্ত বড় ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে, যাদের বার্ষিক টার্নওভার ১.৫ কোটি টাকার বেশি। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের পকেট থেকে অতিরিক্ত কোনো টাকা খরচ হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। পাশাপাশি, দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আগের মতোই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ইউপিআই লেনদেন চালিয়ে যেতে পারবেন।

এমডিআর (MDR) ফি আসলে কী?

ডিজিটাল পেমেন্ট সফলভাবে প্রসেস করার জন্য ব্যবসায়ীরা ব্যাঙ্ক এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের যে ফি বা চার্জ প্রদান করেন, তাকেই এমডিআর (MDR) বলা হয়। সাধারণত ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১.৫% পর্যন্ত ফি দিতে হয়, আর ডেবিট কার্ডের ক্ষেত্রে এই হার কিছুটা কম হয়। তবে এতদিন ইউপিআই পেমেন্টের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনো চার্জ দিতে হতো না।

পেমেন্ট ইন্ডাস্ট্রির যুক্তি, কোনো প্রকার মার্চেন্ট ফি ছাড়া নিরবচ্ছিন্নভাবে এই বিশাল ইউপিআই পরিষেবা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। লেনদেন প্রসেস করে পেমেন্ট সংস্থাগুলি কোনো অতিরিক্ত আয় না করায় ডিজিটাল পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং তার পরিধি বাড়ানোর কাজ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। এই ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়ায়ী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতেই চার্জ চালুর দাবি তুলেছে পেমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি। আইন সংশোধনের পর কেন্দ্র এই বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *