নাড্ডার সঙ্গে এক টেবিলে সৌগত-শত্রুঘ্ন! কালীঘাট কি তবে এবার পুরোপুরি ফাঁকা হতে চলেছে?

আরও একা হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? কালীঘাট তৃণমূল (TMC) কি তবে সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে যাবে? সম্প্রতি সামনে আসা একটি ছবি ঘিরেই এই প্রশ্ন এখন জোরালোভাবে উঠতে শুরু করেছে। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সংসদের একই খাবার টেবিলে বসে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই হেভিওয়েট সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা ও সৌগত রায়। আর ঠিক তাঁদের পাশেই বসে খোশগল্প করছেন বিজেপির শীর্ষ নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। স্বাভাবিকভাবেই এই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে— তবে কি এবার সৌগত ও শত্রুঘ্নও এনসিপিআই-এর দিকে পা বাড়াচ্ছেন?

ভাইরাল ছবি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা
জানা গিয়েছে, ছবিটি সম্প্রতি সংসদের অন্দরের। এনসিপিআই (NCPI)-এর তরফেই ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়েছে। সংসদের ক্যান্টিনে এক টেবিলে বসে খাওয়া-দাওয়া এবং জেপি নাড্ডার সঙ্গে তৃণমূল সাংসদদের এই খোশমেজাজের দৃশ্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

যদিও সংসদে শাসক ও বিরোধী সাংসদদের একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়া বা সৌজন্যমূলক কথোপকথন নতুন কিছু নয়, তবুও এই ছবিটির তাৎপর্য আলাদা। কারণ, এর পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক পরেই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার খবর সামনে এসেছিল। দলটির প্রায় ২০ জন সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ‘এনসিপিআই’ নামক একটি ছোট দলে যোগ দিয়ে বর্তমানে এনডিএ-কে সমর্থন করছেন। সেই আবহেই এই ছবি নতুন করে জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে।

জল্পনা উড়িয়ে কী বললেন সৌগত রায়?
তবে এই ছবি নিয়ে চলা সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জন দৃঢ়ভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। ভাইরাল হওয়া ছবি সম্পর্কে সাফাই দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “জে পি নাড্ডার সঙ্গে বসে কখনও লাঞ্চ করিনি।” তাঁর দাবি, তিনি যখন একা খাচ্ছিলেন, সেই সময়ে হয়তো নাড্ডা তাঁর পাশে এসে বসে থাকতে পারেন।

পাশাপাশি, এনসিপিআই প্রসঙ্গ এড়িয়ে সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়েছেন সৌগত রায়। তাঁর তীব্র কটাক্ষ, বিজেপি আসলে কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি “ডিপার্টমেন্ট অফ লাইজ” (Department of Lies) বা মিথ্যাচারের বিভাগ চালাচ্ছে। সবমিলিয়ে, এই একটিমাত্র ছবিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে জাতীয় ও রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *