নারীর গোপনাঙ্গে যন্ত্র প্রবেশ করানো মানেই ধর্ষণ! কেরালা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক ও কঠোর রায়ে তোলপাড়!

কেরালা হাইকোর্ট নারীর গোপনাঙ্গে যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ ও কঠোর আইনি রায় দিয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কোনো নারী বা নাবালিকার গোপনাঙ্গে ভাইব্রেটিং মেশিন বা অন্য কোনো কৃত্রিম যন্ত্র স্থাপন করা সাধারণ কোনো যৌন নিপীড়ন বা অপরাধ নয়। এটি সরাসরি পকসো (POCSO) আইনের অধীনে ‘প্রবেশমূলক যৌন নিপীড়ন’ (Penetrative Sexual Assault)-এর আওতাভুক্ত এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৭৫(খ) ধারা অনুযায়ী সরাসরি ধর্ষণের শামিল। ত্রিশূরের বাসিন্দা অভিযুক্ত জোশী কেজে-র আইনি আবেদন খারিজ করে দেওয়ার সময় এই যুগান্তকারী রায় দেয় আদালত।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২০ জুলাই এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছিল। দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর ভুক্তভোগী ১৭ বছরের এক কিশোরী উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সন্ধান করছিল। সেই সময় মনসুন মাভুঙ্কাল নামের এক কুখ্যাত ভুয়া পুরাকীর্তি সংগ্রাহক তাকে কসমেটোলজির পাঠ ও লোভনীয় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের বাড়িতে ডেকে আনে এবং ফাঁদে ফেলে।

আদালতের কঠোর মন্তব্য ও নৃশংস ঘটনার বিবরণ
মামলার তদন্তকারী ক্রাইম ব্রাঞ্চের তথ্য অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত মনসুনের সহযোগী জোশি ভুক্তভোগী কিশোরীকে জোরপূর্বক একটি চিকিৎসা কক্ষে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। এরপর সে একটি চালু থাকা কম্পনশীল যন্ত্র বা ভাইব্রেটিং ডিভাইস বলপ্রয়োগ করে ওই কিশোরীর যোনিতে প্রবেশ করিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, এই পৈশাচিক কান্ড ঘটার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। পরবর্তী সময়ে ভুয়া পুরাকীর্তি সংগ্রাহক মনসুন গ্রেপ্তার হওয়ার পর ভুক্তভোগী সাহস সঞ্চয় করে তার ওপর চলা এই নৃশংসতার কথা প্রকাশ্যে আনে।

এই চাঞ্চল্যকর মামলায় বিচারিক আদালত অভিযুক্ত জোশীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। কেরালা হাইকোর্ট সেই রায় সম্পূর্ণ বহাল রেখে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, যোনিপথে বা তার আশেপাশে এ ধরনের কোনো যন্ত্র বা বস্তু বলপূর্বক প্রবেশ করানোই হলো অনুপ্রবেশ। অপরাধের তীব্রতা প্রমাণ করার জন্য এটিই যথেষ্ট। আদালত আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে আইনে নির্ধারিত সর্বনিম্ন ১০ বছরের সাজা থেকে কোনোভাবেই আইনি ছাড় বা রেয়াত পাওয়ার সুযোগ নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *