সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আর চিন্তা নেই! মাত্র কয়েকমাস বয়স থেকেই করুন এই এলআইসি প্ল্যানগুলোতে বিনিয়োগ!

প্রত্যেক বাবা-মায়েরই স্বপ্ন থাকে তাঁদের সন্তান যেন মানুষের মতো মানুষ হয়, উচ্চশিক্ষা লাভ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আর্থিক দিক থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু বর্তমান যুগে যেভাবে হু হু করে শিক্ষা ও দৈনন্দিন খরচ বাড়ছে, তাতে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় অর্থ বিনিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ভারতে নিরাপদ ও আস্থার সঙ্গে বিনিয়োগের কথা বললেই সবার প্রথমে মাথায় আসে জীবন বিমা নিগম বা এলআইসি (LIC)-এর নাম। সন্তানদের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এলআইসি নিয়ে এসেছে বেশ কিছু চমৎকার চাইল্ড প্ল্যান, যা যেমন নিশ্চিত রিটার্ন দেয়, তেমনই যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে সন্তানের পড়াশোনার খরচও পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখে। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এলআইসি-র সেরা তিনটি চাইল্ড প্ল্যান সম্পর্কে:
১. এলআইসি অমৃতবাল (প্ল্যান ৮৭৪)
এটি এলআইসি-র অন্যতম নতুন এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পলিসি, যা বিশেষভাবে সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি বড় অংকের তহবিল বা ফান্ড গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ডিজাইন করা হয়েছে।
যোগ্যতা: সন্তানের বয়স যদি মাত্র ৩০ দিন থেকে ১৩ বছরের মধ্যে হয়, তবেই এই পলিসিটি নেওয়া সম্ভব।
প্রধান বৈশিষ্ট্য: এটি সম্পূর্ণ নিশ্চিত বা গ্যারান্টিড রিটার্ন প্রদান করে। পলিসির মেয়াদের প্রতি হাজারে বার্ষিক ৮০ টাকা করে নিশ্চিত বোনাস যোগ হয়।
মেয়াদ ও বয়স: ১০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত বিনিয়োগের অপশন বেছে নেওয়া যায়। সন্তানের বয়স যখন ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হবে, তখন সে উচ্চশিক্ষার জন্য একটি বড় অংকের টাকা হাতে পাবে।
২. এলআইসি চিলড্রেন’স মানি ব্যাক (প্ল্যান ৮৩২)
সন্তানের পড়াশোনার খরচ মেটাতে মাঝেমধ্যেই বড় অংকের টাকার প্রয়োজন হয়। এই কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে এই মানি-ব্যাক পলিসিটি।
যোগ্যতা: নবজাতক থেকে শুরু করে ১২ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য এই প্ল্যান নেওয়া যায়।
বিশেষ সুবিধা: সন্তানের বয়স যখন ১৮, ২০ এবং ২২ বছর পূর্ণ হবে, তখন প্রতিবারই মূল বীমাকৃত অংকের ২০ শতাংশ করে হাতে পাবেন অভিভাবকরা।
ম্যাচিওরিটি: সন্তানের বয়স যখন ২৫ বছর হবে, তখন পলিসির মেয়াদ শেষ বা ম্যাচিওর হবে। সেই সময়ে বাকি থাকা ৪০ শতাংশ টাকা এবং পলিসির সমস্ত জমাকৃত বোনাস এককালীন প্রদান করা হয়।
৩. এলআইসি জীবন তরুণ (প্ল্যান ৮৩৪)
এই প্ল্যানটির প্রধান ইউএসপি বা বৈশিষ্ট্য হলো এর অসাধারণ নমনীয়তা বা ফ্লেক্সিবিলিটি।
যোগ্যতা: ৯০ দিন থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এটি প্রযোজ্য।
সুবিধা: সন্তানের বয়স যখন ২০ থেকে ২৪ বছর হবে, তখন অভিভাবকরা তাঁদের প্রয়োজনমতো ক্যাশব্যাক হিসেবে প্রতি বছর কত টাকা তুলতে চান তা আগে থেকেই ঠিক করতে পারেন। এক্ষেত্রে ০%, ৫%, ১০% বা ১৫% পর্যন্ত ক্যাশব্যাকের অপশন বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২৫তম বছরে পলিসির মেয়াদ শেষ হলে অবশিষ্টাংশ অর্থ একসঙ্গে পাওয়া যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপস: প্রিমিয়াম মওকুফ রাইডার (PWB)
সন্তানদের জন্য যেকোনো এলআইসি প্ল্যান নেওয়ার সময় অবশ্যই “প্রিমিয়াম ওয়েভার বেনিফিট” (Premium Waiver Benefit বা PWB) রাইডারটি যুক্ত করা উচিত। এই রাইডারটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—পলিসির মেয়াদকালে যদি কোনো কারণে অভিভাবক বা পিতামাতার আকস্মিক মৃত্যু ঘটে বা দুর্ঘটনা ঘটে, তবে পলিসিটি বন্ধ হয়ে যায় না। এলআইসি নিজেই পরবর্তী সমস্ত প্রিমিয়ামের কিস্তি প্রদান করে এবং শিশুটি নির্দিষ্ট সময়ে তার সম্পূর্ণ প্রাপ্য টাকা বুঝে পায়।
পাশাপাশি, এই সমস্ত পলিসিতে আয়কর আইনের ৮০সি ধারা অনুযায়ী বার্ষিক ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যায়। এমনকি ম্যাচিওরিটি এবং মানি-ব্যাক হিসেবে প্রাপ্ত পুরো টাকাই সম্পূর্ণ করমুক্ত (Tax-free)।