৭ দিনের খাবার সঙ্গে নিয়ে পথে কৃষকরা, রণক্ষেত্র মধ্যপ্রদেশের রাজধানী?

ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (MSP) ১০০ শতাংশ মুগ ডাল কেনা, সার বিতরণ ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার এবং ই-টোকেন প্রথার ত্রুটি দূর করার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার (SKM) আওতাধীন ১৯টি কৃষক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে সুবিশাল ‘কৃষক ক্রান্তি পদযাত্রা’। হাজার হাজার কৃষক পুলিশের বসানো একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে ভোপালে ঢুকে পড়েছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করার চ্য়ালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
গত সোমবার নর্মদাপুরম থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রা ওবায়দুল্লাগঞ্জ, মান্ডিদীপ ও ১১ মাইল অতিক্রম করে মঙ্গলবার ভোপালে পৌঁছায়। আন্দোলনের তীব্রতা এতটাই যে, কৃষকরা মঙ্গলবার সারারাত হোসাঙ্গাবাদ রোডে খোলা আকাশের নিচেই কাটান। বুধবার সকালে পুনরায় মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে মিছিল শুরু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
কৃষকদের মেগা আন্দোলনের মূল ভিত্তি:
১০০% মুগ ডাল কেনা (MSP-তে) ➔ ই-টোকেন প্রথার ত্রুটি দূর ➔ ৭ দিনের খাবার-জল নিয়ে ভোপাল ঘেরাও
বীর সাভারকর সেতুতে বিশাল পুলিশ বেষ্টনী
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও বিক্ষোভকারীদের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পৌঁছানো আটকাতে বীর সাভারকর সেতুর মুখে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী। কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান নিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রশাসনকে।
তবে কৃষকরাও পিছু হটতে নারাজ। তাঁরা ট্রাক্টর-ট্রলিতে করে সাত দিনের শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানীয় জল সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। আন্দোলনকারীদের বার্তা— দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজধানী ছেড়ে তাঁরা এক পা-ও নড়বেন না।
উচ্চপর্যায়ের আপৎকালীন বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের
কৃষকদের এই বিশাল বিক্ষোভ সামাল দিতে মঙ্গলবার নিজ বাসভবনে তড়িঘড়ি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আইদাল সিং কানসানা, মুখ্য সচিব অশোক বর্ণওয়াল, জবলপুর বিভাগীয় কমিশনার ও ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় সিং।
প্রশাসনের আশ্বাস বনাম জটিলতা: > বৈঠকের আগে কৃষিমন্ত্রী আন্দোলনকারী কৃষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, “রাজ্য সরকার কৃষকদের সমস্ত উদ্বেগের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।” তবে সূত্রের খবর, ই-টোকেন ও মুগ ডালের সরকারি সংগ্রহের নিশ্চয়তা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত রফাসূত্র এখনও বের হয়নি, যার ফলে ক্ষোভ বাড়ছে কৃষক মহলে।