পুরোনো মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্ত? ঐশী ঘোষকে গ্রেফতারির চেষ্টায় প্রতিবাদে ফুঁসছে CJP

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ব্যানারে দিল্লিজুড়ে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার পরেই আবারও দিল্লি পুলিশের কঠোর নজরদারিতে এসএফআই (SFI)-এর সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক ঐশী ঘোষ। মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লির গোল মার্কেট এলাকায় অবস্থিত সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয় ‘এ কে গোপালন ভবনে’ আচমকা হানা দেয় পুলিশ বাহিনী। উদ্দেশ্য ছিল ঐশীকে হেফাজতে নেওয়া। তবে পার্টি অফিসে উপস্থিত বাম কর্মী-সমর্থক ও সাংসদদের তীব্র বাধার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ না করেই ফিরে যেতে বাধ্য হয় পুলিশ।
এই ঘটনার পর তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার তীব্র কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে সিজেপি (CJP)। সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় সংগঠনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ ঐশী ঘোষকে ভয় দেখাতেই এই ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং সরকার বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখা যাবে না।
কেন সিপিএম সদর দপ্তরে হানা? (পুলিশের দাবি)
দিল্লি পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের এই অভিযানের সঙ্গে সাম্প্রতিক আন্দোলন বা রাজনীতি সম্পর্কিত কোনও সম্পর্ক নেই:
-
পুরোনো মামলা: ২০২১ সালে বেঙ্গালুরু ভবনের সামনে হওয়া একটি বিক্ষোভ প্রদর্শনের মামলায় ঐশী ঘোষের বিরুদ্ধে আদালত জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা (Non-Bailable Warrant) জারি করেছে।
-
হাজিরা এড়ানো: একাধিকবার হাজিরার সমন এড়ানোর কারণেই আদালত আগামী ৩০ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রেখে এই পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ রূপায়ণে পুলিশ দলটি এ কে গোপালন ভবনে গিয়েছিল।
“রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হানাদারি”: বিস্ফোরক সিপিআই(এম)
ঘটনা প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সরব হয়েছেন সিপিআই(এম)-এর রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিট্টাস এবং শীর্ষ নেতৃত্ব।
সাংসদ জন ব্রিট্টাসের অভিযোগ: > “একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের প্রধান দপ্তরে কোনোরকম পূর্ব অনুমতি বা সঠিক নিয়ম ছাড়াই পুলিশ সদস্য জোরপূর্বক প্রবেশ করে। সাদা পোশাকে ও নেমপ্লেট ছাড়া আসা কয়েকজন পুলিশকর্মী একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে এসে ঐশীকে তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। সিজেপি-র বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার ফলেই ৫ বছর পুরোনো মামলা খুঁচিয়ে তুলে পুলিশকে দিয়ে এই প্রতিহিংসামূলক কাজ করানো হচ্ছে।”
একই সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির বার্তা, যেকোনো রকম রাজনৈতিক চক্রান্ত বা ভয় দেখানোর চেষ্টা হলেও ছাত্র ও তরুণদের গণতান্ত্রিক লড়াই থামবে না। ৩০ জুলাই আদালতের পরবর্তী শুনানির ওপর এখন নজর সকলের।