“গত ৫০ বছরে ভয়াবহতম রূপ!”-অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা পৌঁছে গেল ৭৫-এ, চরম হাহাকার

বর্ষার মরশুমে ফি বছরের চেনা ছবি হলেও, চলতি বছর বিগত পাঁচ দশকের সব রেকর্ড ভেঙে শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ও বিধ্বংসী বন্যার মুখোমুখি হয়েছে অসম। অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের (ASDMA) তাজা বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শিবসাগর জেলায় আরও ৭ জনের সলিল সমাধি ঘটেছে। এর ফলে চলতি বছর রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে

বর্তমানে শিবসাগর, চরাইদেও, জোরহাট, গোলাঘাট, নগাঁও, শোণিতপুর এবং কামরূপ মেট্রোপলিটন— এই ৭টি জেলার ৬২২টি গ্রামের ৩ লক্ষ ৩২ হাজারের বেশি মানুষ চরম দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ৪৫,৩৪১.৯৮ হেক্টর আবাদি কৃষিজমি এখনও জলের তলায় তলিয়ে রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বড় ঘোষণা: এককালীন ৯ লাখ টাকার সাহায্য

পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একাধিক স্বস্তিদায়ক আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন:

  • মৃতের পরিবারকে সাহায্য: বন্যায় মৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের জন্য এককালীন ক্ষতিপূরণ বাড়িয়ে ৯ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। নিয়ম শিথিল করে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের বাধ্যবাধকতাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

  • ১৫,০০০ টাকা অন্তর্বর্তী অনুদান: সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৪টি জেলা— শিবসাগর, চরাইদেও, জোরহাট ও গোলাঘাটের প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি দুর্গত পরিবারকে খাদ্য, বস্ত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য অবিলম্বে ১৫,০০০ টাকা করে নগদ অর্থ দেওয়া হচ্ছে।

  • পড়ুয়াদের জন্য গ্রান্ট: বন্যায় বইপত্র ও পোশাক হারানো ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা যাতে থমকে না যায়, তার জন্য দেওয়া হচ্ছে বিশেষ স্টুডেন্ট গ্রান্ট (Student Grant)।

উদ্ধারকাজে গতি: ময়দানে সেনা, ত্রাণে ছাড় এয়ার ইন্ডিয়ার

ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদী ধলাই বা ধানসিঁড়ির জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইতে থাকায় প্লাবিত অঞ্চলগুলিতে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বাহিনী (SDRF) এবং ভারতীয় সেনা ও বিমানবাহিনী

দুর্গতদের দ্রুত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও ওষুধ পৌঁছে দিতে বিমানসংস্থা Air India Express অসমমুখী সমস্ত কার্গো পরিবহণের খরচ সম্পূর্ণ মকুব করেছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলকে (Inter-Ministerial Central Team) ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাপ করতে অসম পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন।

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী কয়েকদিন উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চলে ফের বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ফলে জলস্তর নিয়ে বাড়টি সতর্কতা বজায় রাখছে অসম প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *