২০ বছর পর পুলিশের খাঁচায় মাওবাদী সুপ্রিমো! শুনশান জঙ্গল থেকে নাটকিয় গ্রেপ্তার

লাল করিডোরের শীর্ষ সংগঠনে বড় ধরনের বিপর্যয়। ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার করা হলো নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের পলিটব্যুরো ও সেন্ট্রাল কমিটির শেষ সক্রিয় জীবিত সদস্য মিসির বেসরাকে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার শীর্ষে থাকা ৬৬ বছর বয়সী এই মাওবাদী নেতার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। মঙ্গলবার রাতে ধানবাদ ও গিরিডি জেলার সীমান্তে সিআরপিএফ (CRPF), কোবরা (CoBRA) ও ঝাড়খণ্ড পুলিশের যৌথ অভিযানে সহযোগীসহ জালে ধরা পড়েন তিনি।

সংগঠনে ‘ভাস্কর’ ও ‘সাগর’ নামে পরিচিত মিসির বেসরা ছিলেন মাওবাদীদের মূল তাত্ত্বিক নেতা এবং অপারেশনের শীর্ষ কম্যান্ডার। ধানবাদ পুলিশ জানিয়েছে, ধানবাদ জেলার বারওয়াড্ডা থানার মানিয়াডিহি সংলগ্ন টুন্ডি-মান্ডিয়ার জঙ্গল এলাকা থেকে পালানোর সময় মিসির বেসরা এবং তাঁর দুই শীর্ষ সহযোগী গৌরব হাসদা ও মেহনত ওরফে মোছুকে (যার মাথার দাম ছিল ১৫ লাখ) গ্রেপ্তার করা হয়।

পারশনাথের পাদদেশে চিরুনি তল্লাশি: যেভাবে ধরা পড়লেন মিসির

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই জঙ্গল এলাকায় মাওবাদীদের উপস্থিতি টের পেয়ে যৌথ অভিযান চালানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার আচমকাই খবর আসে, মিসির বেসরা তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে পারশনাথ পাহাড়ের তলদেশের জঙ্গলে গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

সিআরপিএফ ও পুলিশের বিপুল জওয়ান একযোগে জঙ্গল ঘিরে ফেললে মিসির পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সফল হননি। ২০ বছরেরও বেশি সময় পর তাঁকে জীবন্ত অবস্থায় ধরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী।

২০০৯ সালের নাটকিয় আদালত হামলা ও জেলব্রেক

মিসির বেসরার মাওবাদী জীবন চার দশকের পুরোনো। ২০০৭ সালে খাস ঝাড়খণ্ডেই প্রথমবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০০৯ সালে বিহারের লখিসরাই জেলার আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে নিয়ে যাওয়ার সময় মাওবাদী স্কোয়াড আদালত চত্বরে আচমকা হামলা চালিয়ে গোলাগুলি শুরু করে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যান মিসির। তারপর থেকে কোলহান, বুধা পাহাড় ও সারান্ডা জঙ্গল থেকে মাওবাদী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি।

“২০ বছর পর বাবাকে দেখিনি, জীবিত আছে জেনে খুশি”: ছেলে সিদ্ধার্থ

মাওবাদী প্রধানের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর ছেলে সিদ্ধার্থ জানান, মঙ্গলবার বা বুধবার সকাল পর্যন্ত পুলিশ বা সিআরপিএফ আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের কাছে গ্রেপ্তারের খবর জানায়নি।

ছেলের প্রতিক্রিয়া: > “মাত্র ১৫ দিন আগেও পুলিশ আমাদের বাড়ি এসে বলেছিল বাবাকে আত্মসমর্পণ করতে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখতে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আমি বাবাকে দেখিনি। তবে খবর মারফত জানতে পারলাম উনি ধরা পড়েছেন। উনি বেঁচে আছেন জেনে আমি ভীষণ খুশি।”

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ১ কোটি টাকার ইনামি মাওবাদী প্রধানের গ্রেপ্তারি এবং একই দিনে সারান্ডা অঞ্চলে ১৬ জন মাওবাদীর বিপুল অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণের ঘটনা ঝাড়খণ্ড থেকে মাওবাদী আন্দোলনের অস্তিত্ব প্রায় মুছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক বড় জয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *