রাম মন্দিরের নৈবেদ্য চুরি কাণ্ডে এবার বিশাল মোড়! লখনউ থেকে ৫৪ জনের সম্পত্তির নথি তলব করল পুলিশ

পবিত্র অযোধ্যা রাম মন্দিরের বহুল আলোচিত নৈবেদ্য চুরির মামলার তদন্তের পরিধি এবার আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেল। চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তের জাল এখন খোদ লখনউ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তদন্তকারী গোয়েন্দা ও পুলিশ সংস্থাগুলি মূল অভিযুক্ত এবং তাদের পরিবারের মোট ৫৪ জন সদস্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহ করতে শুরু করেছে। এই উদ্দেশ্যে লখনউ পৌরসভা, লখনউ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (LDA), আবাসন উন্নয়ন পরিষদ, স্ট্যাম্প বিভাগ এবং রাজস্ব দপ্তরের কাছে গত দুই বছরে কেনা জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান এবং অন্যান্য বহুমূল্য সম্পত্তির সমস্ত নথি তলব করা হয়েছে।

একাধিক জেলায় চলছে সম্পত্তির হদিশ খোঁজার কাজ
প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধুমাত্র অযোধ্যা বা লখনউ নয়, বরং গোন্ডা, বস্তি, সুলতানপুর এবং প্রতাপগড়ের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জেলাতেও অভিযুক্তদের সম্পত্তির বিষয়ে জোরদার তদন্ত চলছে। অযোধ্যা পুলিশের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে জমি ও সম্পত্তির দলিল চেয়ে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের মোট ৫৪ জন সদস্যের সম্পত্তি এই মুহূর্তে কড়া নজরদারির আওতায় রয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা কেবল শহরাঞ্চলের বিলাসবহুল সম্পত্তিই নয়, বরং গ্রামাঞ্চলে কেনা বিশাল পরিমাণ কৃষি জমি সম্পর্কেও সমস্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন।

বাড়ি, প্লট ও দোকান পরিদর্শনের নির্দেশ
তদন্তের সূত্র ধরে জানা গেছে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (প্রশাসন) প্রদীপ ভার্মার পক্ষ থেকে সম্পত্তি পরিদর্শন সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জারি করা হয়েছে, যার মধ্যে বাড়ি, প্লট, দোকান এবং কৃষি জমির মতো বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জেলার সমস্ত মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট (SDM) এবং স্ট্যাম্পের সহকারী মহাপরিদর্শকদের (প্রথম ও দ্বিতীয়) কাছেও এই মর্মে কঠোর নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

রেকর্ড সংগ্রহের কাজ শুরু প্রশাসনের অন্দরে
অযোধ্যার এসএসপি-র পাঠানো একটি বিশেষ চিঠির ভিত্তিতেই মূলত শহরজুড়ে এই ব্যাপক তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। লখনউ প্রশাসন এই চিঠি পাওয়ার পরেই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে তৎক্ষণাৎ সক্রিয় করে তুলেছে এবং দ্রুত নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। বিভিন্ন সরকারি বিভাগ থেকে সংগৃহীত সমস্ত তথ্য একত্রিত করে একটি বিশদ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রতিবেদন তৈরি করা হবে, যা পরবর্তীতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়া হবে।

বেনামি সম্পত্তি কেনার জোরালো সন্দেহ
অযোধ্যা পুলিশের তীব্র সন্দেহ রয়েছে যে, অভিযুক্তরা মন্দির চত্বর থেকে চুরি করা বহুমূল্য নৈবেদ্য বা তার অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে লখনউয়ের মতো শহরে বেনামি সম্পত্তি গড়ে তুলে থাকতে পারে। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই সম্পত্তিগুলির আদ্যোপান্ত তথ্য হাতে চলে এলে সেগুলির বৈধতা ও সত্যতা যাচাই করা সহজ হবে। বর্তমানে প্রশাসনিক বিভাগগুলি বিভিন্ন দপ্তর থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় দিন গুনছে। এই রিপোর্টগুলি হাতে আসতেই মামলার গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে যাবে এবং পরবর্তী বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *