স্বামী শাড়ি আনেননি! রাগের বশে কুকারের ঢাকনা দিয়ে পিটিয়ে ও গলা টিপে খুন করলেন স্ত্রী, থানেতে চাঞ্চল্য

মহারাষ্ট্রের থানে জেলা থেকে স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সম্পর্ককে কলঙ্কিত করার মতো এক অত্যন্ত শিহরণজাগানো ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সামান্য একটি শাড়ি কিনে না আনায় এক স্ত্রী নিজের স্বামীকে প্রেশার কুকারের ভারী ঢাকনা দিয়ে মাথায় ও মুখে বেধড়ক মারধর করার পর শ্বাসরোধ করে খুন করেছেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, খুন করার পর গোটা ঘটনাটিকে একটি নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করারও চেষ্টা করেছিলেন অভিযুক্ত স্ত্রী। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি; শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশের কড়া জেরার মুখে তাঁর সমস্ত সাজানো নাটক মুহূর্তেই ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়।

কোথায় এবং কীভাবে ঘটেছিল এই মর্মান্তিক ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, থানের বদলাপুর পূর্ব এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির নাম হরেরাম কিষুঞ্জি সিং (৩৫), যিনি মূলত বিহারের রোহতাস জেলার বাসিন্দা। গত ১৯শে জুলাই তিনি নিজের বাড়িতেই ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই তাঁর স্ত্রী সুনিতা দেবীর (৩০) সঙ্গে বাজার থেকে শাড়ি কিনে আনা নিয়ে এক তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

কথাকাটাকাটি ও ঝগড়াঝাঁটি দ্রুত চরমে পৌঁছালে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা স্ত্রী সুনিতা দেবী রান্নাঘরে গিয়ে একটি প্রেশার কুকারের ভারী ঢাকনা তুলে নিয়ে এসে সরাসরি তাঁর স্বামীর মাথা ও মুখে সজোরে আক্রমণ চালান। এরপর তাঁকে পৈশাচিক কায়দায় শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

দুর্ঘটনার নাটক সাজিয়ে পুলিশকে ধোঁকা দেওয়ার অপচেষ্টা
স্বামীকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার পর নিজের অপরাধ ঢাকতে এক ঘৃণ্য ফন্দি আঁটেন অভিযুক্ত স্ত্রী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে তিনি সাফ জানান যে, তাঁর স্বামীর মৃত্যুটি আসলে একটি আকস্মিক দুর্ঘটনাজনিত কারণে ঘটেছে। মহিলার এই সাজানো বিবৃতির ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় পুলিশ প্রাথমিকভাবে একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর (ADR) মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছিল।

কিন্তু এর পরেই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় সরকারি হাসপাতালের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন। বদলাপুর পূর্ব থানার সিনিয়র ইন্সপেক্টর নিতিন পাটিল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ময়নাতদন্তের মেডিকেল রিপোর্টে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে হরেরাম সিংয়ের মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং তাঁকে সম্পূর্ণ সুপরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করেই হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়ে অপরাধ স্বীকার অভিযুক্ত স্ত্রীর
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরই পুলিশ ঘটনার গভীরে গিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ যখন নিহত ব্যক্তির পরিবার এবং তাঁদের বাড়ির মালিককে একচিলতে সময় না দিয়ে অত্যন্ত কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, তখন থেকেই অভিযুক্ত স্ত্রীর পরস্পরবিরোধী কথাবার্তা এবং অস্বাভাবিক আচরণে তদন্তকারীদের মনে তীব্র সন্দেহের দানা বাঁধে।

এরপর পুলিশ ওই মহিলাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে কড়া ভাষায় জেরা করতেই তিনি নিজের অপরাধের কথা নিঃশর্তে স্বীকার করে নেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিহারের রোহতাসের বাসিন্দা অভিযুক্ত স্ত্রী সুনিতা দেবী হরেরাম সিংকে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার তাঁকে স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে আগামী ২৯শে জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে (Police Custody) পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *