ITR ফাইলে বড় ভুল করে ফেলেছেন? জেল-জরিমানা এড়াতে জেনে নিন সংশোধনের এই সহজ উপায়!

নিজের আয়কর রিটার্ন বা ITR দাখিল করার সময় অজান্তেই বহু মানুষ এমন কিছু ছোটখাটো ভুল করে ফেলেন, যা পরবর্তীতে বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। রিটার্নে ভুল আয় কিংবা ভুল ব্যাংক বিবরণী প্রবেশ করানোর মতো সাধারণ ভুল যে কারও পক্ষেই হওয়া সম্ভব। করদাতাদের এই ধরণের অনিচ্ছাকৃত ভুল সংশোধনের জন্য দ্বিতীয় একটি সুযোগ দিতে আয়কর বিভাগ ‘ধারা ১৩৯(৫)’-এর অধীনে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করার আইনি সংস্থান রেখেছে।
ধারা ১৩৯(৫)-এর অধীনে দ্বিতীয় সুযোগ
আপনার মূল আইটিআর (ITR) জমা দেওয়ার পর যদি নথিতে কোনো ভুল বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ে যাওয়ার কথা আপনার নজরে আসে, তবে এই বিভাগটি আপনাকে একটি সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করার পূর্ণ সুযোগ দেয়। এই সংশোধিত রিটার্নটি সরাসরি আপনার মূল আইটিআর-এর স্থলাভিষিক্ত হয়। তবে মনে রাখবেন, এটি শুধুমাত্র করদাতাদের প্রকৃত ও সাধারণ ভুল সংশোধনের জন্যই প্রযোজ্য, কোনোভাবেই কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়।
আইটিআর-এ সচরাচর যে ভুলগুলি হয়ে থাকে:
আয়ের ভুল বিবরণ বা হিসাব দেওয়া।
ব্যাংক থেকে পাওয়া সুদের আয় বাদ পড়ে যাওয়া।
৮০০সি (80C), ৮০ডি (80D)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্তন বা ডিডাকশন দেখাতে ভুলে যাওয়া।
ভুল আইটিআর ফর্ম নির্বাচন করা।
ফর্ম ২৬এএস (26AS)-এর সঙ্গে টিডিএস (TDS)-এর তথ্যে অমিল থাকা।
রিফান্ডের জন্য ভুল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে ফেলা।
সময়সীমার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
‘ইকোনমিক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্বে মূল্যায়ন বর্ষের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করার নিয়ম থাকলেও, সাম্প্রতিক বাজেট ২০২৬-এর অধীনে তা বাড়িয়ে আগামী ৩১শে মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে। কোনো কারণে যদি আপনি এই সময়ের মধ্যেও সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করতে না পারেন, তবুও চিন্তার কিছু নেই। আপনি এখনও অতিরিক্ত কর ও প্রযোজ্য সুদসহ দীর্ঘ ৪৮ মাসের মধ্যে একটি হালনাগাদ রিটার্ন বা ‘আইটিআর-ইউ’ (ITR-U) দাখিল করার সুযোগ পাবেন।
কীভাবে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করবেন?
১. সবার প্রথমে আয়করের অফিসিয়াল ই-ফাইলিং পোর্টালে লগইন করুন।
২. সঠিক মূল্যায়ন বছরটি (Assessment Year) নির্বাচন করুন।
৩. এরপর ধারা ১৩৯(৫) এর অধীনে ‘সংশোধিত রিটার্ন’ (Revised Return) অপশনটি বেছে নিন।
৪. আপনার আসল আইটিআর-এর স্বীকৃতি বা অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বরটি সঠিকভাবে প্রবেশ করান।
৫. আপনার নথিতে থাকা ভুলগুলি সংশোধন করে নিন।
৬. সমস্ত তথ্য যাচাই করে তা জমা দিন এবং অতি অবশ্যই ই-যাচাই (E-verify) সম্পন্ন করুন।
সংশোধিত রিটার্ন বনাম সংশোধন: দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়
সাধারণত করদাতার নিজের ভুল সংশোধনের জন্যই ‘সংশোধিত রিটার্ন’ (ধারা ১৩৯(৫)) দাখিল করা হয়। অন্যদিকে, ‘সংশোধন’ (ধারা ১৫৪) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যা সাধারণত আয়কর বিভাগের তরফ থেকে কোনো ত্রুটির নোটিশ পাঠানোর পর স্বয়ং কর বিভাগই সংশোধন করে থাকে। তাই এই দুটি বিষয়কে কখনোই এক করে গুলিয়ে ফেলবেন না।
ভুলগুলি উপেক্ষা করলে কী পরিণতি হতে পারে?
রিটার্নের ভুল সংশোধন না করে এড়িয়ে গেলে আপনার রিফান্ড আসতে অতিরিক্ত দেরি হতে পারে। পাশাপাশি অপরিশোধিত করের ওপর চড়া সুদ, আয়কর দপ্তরের নোটিশ, ভারী জরিমানা এমনকি আপনার অ্যাকাউন্ট অডিট হওয়ার মতো বড় ঝামেলার মুখেও পড়তে হতে পারে। আপনি নির্ধারিত আইনি সময়সীমার মধ্যে যতবার খুশি আপনার আইটিআর পর্যালোচনা ও সংশোধন করতে পারেন। মনে রাখবেন, প্রতিটি নতুন সংশোধন আগেরটিকে বাতিল করে দেয়। তবে কর বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমবারেই সমস্ত তথ্য নিখুঁতভাবে পূরণ করার চেষ্টা করা উচিত, কারণ বারবার রিটার্ন সংশোধন করলে তা আয়কর বিভাগের নজরে একটি ‘বিপদের সংকেত’ বা রেড ফ্ল্যাগ হিসেবে দেখা দিতে পারে।