ভোজশালা চত্বরে নামাজ পড়া নিয়ে বড় মোড়! সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মুসলিম পক্ষ, শুনানি শুক্রবার

মধ্যপ্রদেশের বিতর্কিত ধর ভোজশালা (Dhar Bhojshala) চত্বর মামলার জল গড়ায় খোদ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। মুসলিম পক্ষের করা একটি বিশেষ আবেদন শুনতে অবশেষে রাজি হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ওই আবেদনে সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, মধ্যপ্রদেশ সরকার জুমার নামাজ পড়ার জন্য যে বিকল্প জমিটি চিহ্নিত করেছে, তা মূল বিতর্কিত ভোজশালা চত্বর থেকে অনেকটাই দূরে অবস্থিত। আগামী শুক্রবার এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

গত বুধবার (২২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টে ধর ভোজশালা সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন মধ্যপ্রদেশ সরকার আদালতকে আশ্বস্ত করেছিল যে, মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে জুমার নামাজ আদায় করতে পারেন, তার জন্য ভোজশালার কাছাকাছিই একটি উপযুক্ত বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে যে জমির প্রস্তাব দেওয়া হয়, তাতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে মুসলিম পক্ষ।

জুমার নামাজ ও বিকল্প জায়গার টানাপোড়েন
সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একটি নির্দেশ অনুযায়ী, মুসলিমদের জুমার নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে ভোজশালা মন্দির-কমল মৌলা মসজিদ চত্বরের কাছাকাছি একটি স্থান নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা ছিল। আদালতের শুনানিতে সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল (SG) তুষার মেহতা জানান যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

ঠিক কী আপত্তি জানিয়েছে মুসলিম পক্ষ?
আদালতে মুসলিম পক্ষের বিশিষ্ট আইনজীবী হুযাইফা আহমাদী নামাজের জন্য সরকারের প্রস্তাবিত জমি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সওয়াল করে জানান, জুমার নামাজের জন্য যে বিকল্প জমিটি দেওয়া হয়েছে, তা মূল ভোজশালা চত্বর থেকে যথেষ্ঠ দূরে অবস্থিত। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে বিকল্প জমিটি ভোজশালার একেবারেই কাছাকাছি হতে হবে, অথচ বাস্তবে যে জমি দেওয়া হয়েছে তা প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত! আইনজীবীর দাবি, প্রশাসনের এই দূরত্বের বেড়াজালে পড়ে ইতোমধ্যে তাঁদের একটি জুমার নামাজও ছুটে গেছে।

কাছাকাছি অন্য জায়গার সন্ধান চলছে: সলিসিটর জেনারেল
জবাবে সলিসিটর জেনারেল জানান যে, প্রস্তাবিত স্থানটি আসলে ভোজশালা থেকে প্রায় ৯০০ মিটার দূরে রয়েছে, তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা আরও কাছাকাছি অন্য কোনো উপযুক্ত জায়গা পাওয়ার জন্য জোরদার খোঁজ চালাচ্ছেন। তিনি প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে জানান যে তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি দেখভাল করবেন। এরপর প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত আগামী শুক্রবার এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করে তা তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেন। শুনানিকালে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী অত্যন্ত কড়া সুরে স্পষ্ট করে দেন যে, আদালতের প্রতিটি নির্দেশ সবসময় অক্ষরে অক্ষরে নিখুঁতভাবে পালন করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ
উল্লেখ্য, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, ভোজশালার নিকটবর্তী এলাকায় মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য অবিলম্বে একটি বিকল্প স্থান নিশ্চিত করতে হবে। গত ১৪ জুলাই মামলার শুনানિકালে শীর্ষ আদালত মুসলিম পক্ষকে শুক্রবারের নামাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি বিকল্প বন্দোবস্ত করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল।

সেই শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, ভোজশালা চত্বরের একেবারে কাছাকাছি এমন কোনো জমি বা জায়গা দেওয়া সম্ভব কি না, যেখানে নামাজ পড়া যেতে পারে। একই সঙ্গে আদালত মুসলিম পক্ষকেও এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখানোর কথা বলে। এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো যায়, এখন সেটাই দেখার। আগামী শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের এই বহুল প্রতীক্ষিত শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমস্ত পক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *