মার্কিন হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি! লেবার পার্টির নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নামের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শোরগোল

যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেন অ্যান্ডি বার্নাম (Andy Burnham)। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নেতৃত্ব পরিবর্তনের গুঞ্জনের মাঝেই তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সীমিত পরিসরে হলেও মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলি ব্যবহার করতে দেওয়া অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমেই লন্ডন স্পষ্ট করে দিল যে, সরকারের পরিবর্তন ঘটলেও মার্কিন-ইরান সংঘাতে যুক্তরাজ্যের পূর্বের নীতি ও অবস্থান পুরোপুরি অপরিবর্তিত থাকছে।
স্টার্মারের পথেই হাঁটলেন অ্যান্ডি বার্নাম
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই নতুন নীতির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অপারেশন চালনার জন্য যুক্তরাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সামরিক সুবিধা, যার মধ্যে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) এবং দিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেগুলি আগের মতোই ব্যবহার করতে পারবে। পূর্ববর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টার্মার (Keir Starmer) শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহত্তর অনুরোধ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেও পরবর্তীতে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। আর প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর অ্যান্ডি বার্নাম সেই একই পূর্বসূরির পথকেই অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বার্নাম জোর দিয়ে বলেছেন যে, তাঁর সরকার দেশের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় এবং একই সঙ্গে মিত্র দেশগুলির পাশে দাঁড়াতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একই সঙ্গে তিনি এও পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ব্রিটেন কোনোভাবেই মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে দেখতে চায় না এবং সীমিত সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপরও সমানভাবে জোর দিচ্ছে।
১১ দিন ধরে মার্কিন হামলা ও যুক্তরাজ্যের সীমিত ভূমিকা
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে। গত টানা এগারো দিন ধরে ওয়াশিংটন নিয়মিতভাবে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো এবং ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান ও মিসাইল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্য বারবার দাবি করে আসছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে না। তবে আন্তর্জাতিক আইনের সীমার মধ্যে থেকে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সুরক্ষার স্বার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটিগুলি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রতিরক্ষামূলক মিশন জারি রেখেছে। বিশেষ করে ওই অঞ্চলে কর্মরত ব্রিটিশ নাগরিক ও মিত্র দেশগুলির সুরক্ষায় তেহরানের ছোঁড়া একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে মাঝপথেই ধ্বংস করেছে ব্রিটিশ বাহিনী।
ব্রিটিশ সরকারের স্পষ্ট বার্তা, তাদের মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পারদ চড়া রোধ করা এবং ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়া। এই উদ্দেশ্যে সাইপ্রাসের আরএএফ আক্রোটিরি (RAF Akrotiri) সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন থাকা ব্রিটিশ সামরিক সম্পদ ও বাহিনী বর্তমানে অঞ্চলটির প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম এবং সুরক্ষায় অবিরাম কাজ করে চলেছে।