মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে বড় বিপদে ডেভিড ওয়ার্নার! সিডনি থান্ডারের অধিনায়কত্ব কি তবে অনিশ্চিত?

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আইনি বিপাকে পড়ে গেলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার (David Warner)। আদালতের শুনানিতে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা মাঝারি মাত্রার ড্রিংক-ড্রাইভিং বা মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ নিঃশর্তভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন। আর এই আইনি জটিলতার জেরে বিগ ব্যাশ লিগের দল সিডনি থান্ডার (Sydney Thunder)-এর অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
আইনি সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ৫ এপ্রিল ইস্টার সানডের দিন সিডনির পূর্বাঞ্চলে রুটিন রোডসাইড ব্রেথ টেস্ট বা অ্যালকোহল পরীক্ষার মুখোমুখি হন ডেভিড ওয়ার্নার। সেই পরীক্ষায় তাঁর শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরপর তাঁকে মারৌব্রা থানায় নিয়ে গিয়ে দ্বিতীয়বার শ্বাস পরীক্ষা (Breath Test) করানো হলে তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা পাওয়া যায় ০.১০৪, যা অস্ট্রেলিয়ার নির্ধারিত আইনি সীমার দ্বিগুণেরও বেশি।
আদালতে ওয়ার্নারের আইনজীবী জানান, ঘটনার দিন এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে তিন গ্লাস ওয়াইন পানের পর উবার বা অন্য কোনো ক্যাব ব্যবহার না করে নিজেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ওয়ার্নার। আইনজীবীর বক্তব্য, “প্রভুর পুনরুত্থানের দিনে এক গ্লাস ওয়াইন পান করা কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু প্ল্যান-বি অর্থাৎ নিরাপদ যাতায়াতের বন্দোবস্ত না করে অত্যন্ত বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্তই তাঁর অপরাধ।” নিজের ভুলের জন্য গভীরভাবে লজ্জিত ওয়ার্নার আদালতের কাছে নমনীয় শাস্তির আবেদন জানিয়েছেন। আগামী ১৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।
ক্রিকেট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সংশয়
ওয়ার্নারের এই অপরাধ স্বীকারের পরেই সিডনি থান্ডার দলের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ক্রিকেট এনএসডব্লিউ (Cricket NSW)-এর প্রধান নির্বাহী লি জার্মন জানিয়েছেন, ওয়ার্নারের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগের এবং বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। উল্লেখ্য, সিডনি থান্ডার এবং অন্যান্য রাজ্য দলগুলি অতীতে জনসচেতনতামূলক ড্রিংক-ড্রাইভিং বিরোধী প্রচারে অংশ নিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের বল টেম্পারিং বিতর্কে নেতৃত্ব থেকে আজীবন নিষিদ্ধ হলেও ২০২৪ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং তারপরেই তাঁকে সিডনি থান্ডারের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে বর্তমান এই আইনি জটিলতা এবং আসন্ন শাস্তির রায়ের পর তাঁর অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন আরও জোরালো হলো।