মহাজাগতিক নাটক নাকি রাজনৈতিক ভূমিকম্প! উদ্ধবকে ধাক্কা দিয়ে শিন্ডে শিবিরে যাওয়া ৬ সাংসদকে নিয়ে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের এক চরম আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত। রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে দলের ছয়জন বিদ্রোহী সাংসদের যোগদানের অনুমতি দেওয়ার লোকসভা স্পিকার ওম বিরলার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর (শিবসেনা-ইউবিটি) দায়ের করা পিটিশন শুনানিতে সম্মত হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলার প্রেক্ষিতে আদালত লোকসভা সচিবালয় এবং দলত্যাগকারী অভিযুক্ত সাংসদদের নোটিশ জারি করেছে।
বিচারপতি পি.এস. নরসিংহ এবং বিচারপতি অলোক আরাধের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ বুধবার আবেদনটির ওপর নোটিশ জারি করে লোকসভা স্পিকারের কার্যালয় তথা সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিবাদীদের কাছ থেকে জবাব তলব করেছে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, “এই মামলায় নোটিশ জারি করা হোক।” একইসঙ্গে আগামী দুই সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে শীর্ষ আদালত।
স্পিকারের অনুমোদন ও লোকসভায় সমীকরণ বদল
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর ঠিক দুদিন আগে, গত ১৮ই জুলাই, লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা একনাথ শিন্দের দলে শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয়জন সাংসদের অন্তর্ভুক্তিতে সিলমোহর দেন। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই ছয়জন বিদ্রোহী সাংসদের দলবদল ও অন্তর্ভুক্তির ফলে লোকসভায় একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার মোট সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।
এর আগে মঙ্গলবার, উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী দেবদত্ত কামাত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে মামলাটি উত্থাপন করেন। আইনজীবী কামাত বুধবারই এই মামলার দ্রুত শুনানির জন্য আদালতকে বিশেষ অনুরোধ জানান।
“যাঁদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, এখন তাঁদের সাথেই দলবদল!”
সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে আইনজীবী দেবদত্ত কামাত তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, লোকসভার স্পিকার যে কায়দায় এই ছয়জন সাংসদের দলবদলকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এটি বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে এক বিপজ্জনক প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে নির্বাচিত সাংসদরা সরাসরি সেই সমস্ত দলেই যোগ দিচ্ছেন, যাদের বিরুদ্ধে তাঁরা বিগত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার টিকিটে মোট ৯ জন সাংসদ জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু দল ভাঙার এই খেলায় তাঁদের মধ্যে থেকেই ৬ জন সাংসদ দলত্যাগ করে সরাসরি একনাথ শিন্দের শিবিরে ভিড়ে যান।
দলত্যাগ বিরোধী আইন ও আইনি লড়াই
সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা মূল আবেদনে শিবসেনা (ইউবিটি) পক্ষ থেকে জোরালো যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে যে, স্পিকারের উচিত ছিল এই বিদ্রোহী সাংসদদের অবিলম্বে অযোগ্য ঘোষণা করা, কারণ তাঁদের এই পদক্ষেপ সরাসরি দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতাভুক্ত। কিন্তু সমস্ত যুক্তিকে পাশ কাটিয়ে স্পিকার বিদ্রোহী সাংসদদের শিন্ডে গোষ্ঠীর সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অনুমোদন করেন। এখন দেখার বিষয়, সুপ্রিম কোর্টের এই নোটিশের পর আইনি লড়াইয়ে কোন দিকে মোড় নেয় মহারাষ্ট্রের রাজনীতির এই উত্তপ্ত অধ্যায়।