গাড়ির মাইলেজ হঠাৎ তলানিতে ঠেকেছে? ইথানলকে দোষ দেওয়ার আগে এই ৫ ভুল আজই শুধরে নিন!

আজকাল বহু গাড়ির মালিকেরই মূল উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে গাড়ির কম মাইলেজ বা জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ। বিশেষ করে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার পর এই সমস্যা যেন মধ্যবিত্তের পকেট আরও ফাঁকা করে দিচ্ছে। অনেকেই না বুঝে সম্প্রতি বহুল আলোচিত ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোলকেই এর জন্য একশো শতাংশ দায়ী করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়ির মাইলেজ হ্রাসের পেছনে সবসময় ইথানল দায়ী নয়। বরং আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসমূলক ভুল এবং গাড়ির ছোট্টখাট্টো রক্ষণাবেক্ষণের অবহেলাই এর প্রধান কারণ। যদি আপনার গাড়ির মাইলেজও হঠাৎ কমতে শুরু করে, তবে মেকানিকের কাছে ছোটার আগে ঝটপট পরীক্ষা করে দেখুন এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি:
টায়ারের সঠিক বায়ুচাপ পরীক্ষা করুন
গাড়ির মাইলেজের সঙ্গে টায়ারের সুনির্দিষ্ট যোগ রয়েছে। টায়ারে পর্যাপ্ত হাওয়া বা প্রেসার না থাকলে রাস্তার সঙ্গে তার ঘর্ষণ বা ফ্রিকশন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে গাড়ি সচল রাখতে ইঞ্জিনকে অতিরিক্ত জোর খাটাতে হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে জ্বালানি খরচের ওপর। তাই গাড়ির মাইলেজ ঠিক রাখতে নিয়মিত সবকটি টায়ারে সঠিক এয়ার প্রেশার বা বায়ুচাপ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এয়ার ফিল্টারের অবস্থাও উপেক্ষা করবেন না
ইঞ্জিনের সঠিক কার্যকারিতার জন্য এয়ার ফিল্টার বিশুদ্ধ বাতাস সরবরাহ করতে সাহায্য করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের ফলে এতে প্রচুর ধুলোবালি ও ময়লা জমে ব্লক হয়ে যায়, যার ফলে ইঞ্জিনে প্রয়োজনীয় বায়ুপ্রবাহ কমে যায়। ইঞ্জিনে বাতাস ও জ্বালানির সঠিক মিক্সচার বা অনুপাত না থাকলে গাড়ি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি তেল খরচ করতে শুরু করে। তাই নিয়মিত প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজনে তা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক।
স্পার্ক প্লাগগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করুন
পেট্রোল চালিত গাড়ির ইঞ্জিনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হলো স্পার্ক প্লাগ। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে স্পার্ক প্লাগগুলি পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, যার জেরে ফুয়েল বা জ্বালানি সঠিকভাবে প্রজ্বলিত হতে বাধা পায়। এই সমস্যা সরাসরি গাড়ির পারফরম্যান্স এবং জ্বালানি দক্ষতা উভয়কেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই স্পার্ক প্লাগে কোনো ত্রুটি লক্ষ্য করলেই তা অবিলম্বে পরিষ্কার বা বদলে ফেলুন।
অতিরিক্ত ওজন এবং এসির অতিরিক্ত ব্যবহার
অনেকেই গাড়ির ট্রাঙ্কে বা পেছনের অংশে অপ্রয়োজনীয় ভারী জিনিসপত্র বোঝাই করে রাখেন, যা ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এই অতিরিক্ত ওজনের কারণেই গাড়ি টানতে বেশি জ্বালানি পোড়াতে হয়। পাশাপাশি, জ্যামে বা দীর্ঘ সময় ধরে একটানা এসির ব্যবহারও গাড়ির মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
ইঞ্জিন অয়েলের গুণমান ও সময়মতো বদল
পুরোনো বা নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশের ঘর্ষণ বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ইঞ্জিনকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয় এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পায়। তাই প্রস্তুতকারক সংস্থার নির্দেশিকা অনুযায়ী সঠিক সময়ে নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ।