শোবার ঘরে স্ত্রী ও দুই মেয়ের টেপ দিয়ে বাঁধা মুখ! কর্নাটকের এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে শিউরে উঠবে গোটা দেশ

কর্ণাটকের মহীশূর জেলা থেকে এক অত্যন্ত ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে, যা পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আর্থিক সংকট ও ঋণের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে এক ব্যক্তি প্রথমে তাঁর স্ত্রী ও দুই ছোট মেয়েকে নির্মমভাবে খুন করেন এবং পরবর্তীতে নিজে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। একই পরিবারের চার সদস্যের এই রহস্যমৃত্যুতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মানুষের মানসিক অবসাদ নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করেছে। তাঁরা হলেন ৩৯ বছর বয়সী হরিশ, তাঁর ৩৭ বছর বয়সী স্ত্রী নিশিতা, আট বছর বয়সী বড় মেয়ে রক্ষা এবং চার বছরের ছোট মেয়ে নকশা।
প্রাথমিক তদন্ত ও আর্থিক সংকটের ছায়া
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, মৃত হরিশ একটি বেসরকারি বীমা কোম্পানির যানবাহন উদ্ধার বিভাগে কর্মরত ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে জর্জরিত ছিলেন। তবে শুধু ঋণই নয়, এর নেপথ্যে কোনো পারিবারিক বিবাদ বা অন্য কোনো গোপন ব্যক্তিগত কারণ জড়িয়ে রয়েছে কি না, তাও সমান গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শোবার ঘর থেকে উদ্ধার স্ত্রী-কন্যার মৃতদেহ
মহীশূরের পুলিশ সুপার মল্লিকার্জুনা বালাদণ্ডীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির নিচতলার একটি শোবার ঘরের বিছানা থেকে স্ত্রী এবং দুই মেয়ের নিথর দেহ উদ্ধার করে। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, তিনজনেরই মুখ অত্যন্ত সুকৌশলে আঠালো টেপ দিয়ে জড়ানো ছিল। অন্যদিকে, বাড়ির দোতলার একটি ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হরিশের মৃতদেহ। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় থানা ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেন। সমস্ত মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
সুসাইড নোট ও সুপরিকল্পিত ছক
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট বা আত্মহত্যার চিঠি উদ্ধার করেছে। ওই চিঠিতে হরিশ লিখে রেখে গিয়েছিল যে, তাকে ওপরের তলার ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, বাড়িতে রাখা একটি লকার, তার চাবি কোথায় রয়েছে এবং লকারের ভেতরে থাকা সম্পত্তির কাগজপত্র ও ঋণের যাবতীয় তথ্যের কথাও সে ওই নোটে স্পষ্ট করে উল্লেখ করে গেছে। চিঠিতে সে আরও নির্দেশ দিয়েছিল যে, লকারের ভেতরের নির্দিষ্ট বাক্সটি যেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে পুলিশ এই সুইসাইড নোটের প্রতিটি লাইন খতিয়ে দেখছে।
তদন্তে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত বলছে, ঘটনার প্রায় তিন দিন আগেই অভিযুক্ত হরিশ অত্যন্ত সুকৌশলে তার মাকে অন্য এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। এই একটিমাত্র তথ্যই জোরালোভাবে ইঙ্গিত করছে যে, পুরো হত্যাকাণ্ডটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পূর্বপরিকল্পিত ছক কষেই ঘটিয়েছিল ওই ব্যক্তি।
সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ
হুনসুর টাউন পুলিশ এই ভয়াবহ ঘটনায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করে জোরকদমে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে, এই চরম কাণ্ডের পেছনে কেবল ঋণের চাপই একমাত্র কারণ ছিল, নাকি এর সঙ্গে পারিবারিক অশান্তি বা অন্য কোনো জটিল ব্যক্তিগত সমীকরণ যুক্ত রয়েছে। একই পরিবারের চার সদস্যের এই অকালমৃত্যু গোটা অঞ্চলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং এই ভয়াবহ পরিস্থিতির নেপথ্য সত্য জানতে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সাধারণ মানুষ।