সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে আইটি কর্মীকে জোর করে গাড়িতে তুলে অপহরণ! মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিনেমার কায়দায় উদ্ধার পুলিস

ব্যস্ততম সল্টলেক সেক্টর ফাইভ (Salt Lake Sector V) চত্বর থেকে এক আইটি পেশাদারকে প্রকাশ্য দিবালোকে জোর করে গাড়িতে তুলে অপহরণ করার মতো এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। মঙ্গলবার সন্ধ্যার এই আকস্মিক ঘটনায় পুরো অফিস পাড়ায় তীব্র আতঙ্ক ও হুলস্থূল পড়ে যায়। তবে ঘটনার পরই অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার পুলিস, এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সফলভাবে উদ্ধার করে অপহৃত যুবককে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সাহায্যেই সাফল্য
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা নাগাদ সল্টলেকের ব্যস্ত আরডিবি (RDB) বিল্ডিংয়ের ঠিক সামনে থেকে অঙ্কন সাহা নামক ওই আইটি কর্মীকে বলপূর্বক একটি সাদা রঙের মহিন্দ্রা স্করপিও (Mahindra Scorpio) গাড়িতে তুলে অপহরণ করা হয়। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই নড়েচড়ে বসে ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানার পুলিস।
তদন্তে নেমে ওই এলাকার একাধিক সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। ফুটেজ থেকেই অপহরণের কাজে ব্যবহৃত সাদা স্করপিও গাড়িটিকে চিহ্নিত করা হয়। এরপর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ট্র্যাক করে প্রথমে তার মালিক এবং পরবর্তীতে চালকের মোবাইল নম্বর জোগাড় করে পুলিস। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্রেস করে গাড়িটির সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। দেখা যায়, গাড়িটি তখন নদীয়া জেলার জাতীয় সড়ক ১২ (NH 12)-এর বারাজাগুলিয়া এলাকার দিকে এগোচ্ছে।
নদীয়া থেকে উদ্ধার অপহৃত, আটক ৫
সঙ্গে সঙ্গে হরিণঘাটা থানার পুলিসের সহযোগিতায় ওই গাড়িটিকে ধাওয়া করে আটক করা হয় এবং নিরাপদে উদ্ধার করা হয় অপহৃত আইটি কর্মী অঙ্কন সাহাকে। ওই গাড়িতে থাকা মোট পাঁচজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিস। এত দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো অপারেশন সফল করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে প্রশাসন।
আর্থিক বিবাদই কি আসল কারণ?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কোনো পুরোনো বকেয়া বিবাদই এই অপহরণ ও মারধরের নেপথ্যে রয়েছে। অভিযুক্তদের দাবি, অঙ্কন সাহার কাছে তাদের প্রায় ৭৮ লক্ষ টাকা পাওনা ছিল। আর সেই টাকার জেরেই এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। আটক ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পুরো ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে পুলিস।