‘কে আসল তৃণমূল, আমি জানি না!’ দুই শিবিরের লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ‘আসল-নকল’ লড়াই এবং পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই মুখ খুললেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। শুক্রবার দিল্লির এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব এবং রাজ্যের ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।
‘আসল তৃণমূল’ নিয়ে ধোঁয়াশা:
দিল্লির ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ (IIIDEM)-এ আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের দুই শিবির নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কৌতূহল বজায় রাখেন। তিনি বলেন, “কে আসল তৃণমূল আর কে ভুয়ো, তা আমার জানার বিষয় নয়। কমিশন কেবল সংবিধান ও আইন অনুযায়ী কাজ করবে।” অর্থাৎ, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে কমিশন আপাতত কোনো মন্তব্য করতে নারাজ।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবি:
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে কালীঘাট তৃণমূল যে অভিযোগগুলো তুলেছিল, তা এদিন পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। বুথ দখল বা রিগিংয়ের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “কোথায় বুথ দখল বা জ্যাম হয়েছে? এমন ঘটনা ঘটলে ৯৩.৭ শতাংশ ভোটদান সম্ভব হত না। অস্ট্রেলিয়ার মতো বাধ্যতামূলক ভোটদানের দেশেও ৯১ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে না, সেখানে বাংলা নজির গড়েছে। এই ভোটদানের হারই প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রয়েছে এবং নির্বাচন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ হয়েছে।”
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষতা:
রাজ্য সরকারের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা যাবতীয় অভিযোগের উত্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলের ইচ্ছায় চলে না। তিনি স্পষ্ট জানান, অন্য সব রাজ্যে যেভাবে আইন মেনে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গেও ঠিক একইভাবে কমিশনের নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। কমিশন সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
বাংলার ভোট প্রক্রিয়া ও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে শাসক দলের একাংশের অসন্তোষ থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিল। সাংবিধানিক সংস্থার এই মন্তব্য যে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।