গেরুয়া পাঞ্জাবিতে মদন মিত্র! ‘দাবাং তৃণমূল’র খোঁজে মমতার হাত ছাড়লেন কামারহাটির বিধায়ক?

দলবদল, ইডির সমন এবং গেরুয়া পাঞ্জাবি—সব মিলিয়ে মদন মিত্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। শুক্রবার বিধানসভায় আম্বেদকর মূর্তির পাদদেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, তিনি তাঁর নিজস্ব স্টাইলেই রাজনীতি করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট পরিচালিত তৃণমূলের কড়া সমালোচনা করে মদন মিত্র দাবি করলেন, এখন প্রয়োজন এক ‘দাবাং তৃণমূল কংগ্রেস’।
‘দাবাং’ রাজনীতির ডাক:
সাংবাদিক বৈঠকে মদন মিত্র সরাসরি কালীঘাট তৃণমূলের পরিচালনার সমালোচনা করেন। তাঁর কথায়, “কালীঘাট থেকে দল যেভাবে চলছে, তাতে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করা অসম্ভব। ছ’টার সময় কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা পৌনে ছ’টা পর্যন্ত কালীঘাট জানে না। আমরা আগ্রাসী দল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছি, তার জন্য সঠিক পথের প্রয়োজন।” এদিন মদন মিত্রের পরনে ছিল গেরুয়া পাঞ্জাবি, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তবে সেসবকে পাত্তা না দিয়ে মদন নিজের মেজাজেই বললেন, “পাঞ্জাবি তো নতুন হতেই পারে।”
ইডির তলব ও কুণালকে কটাক্ষ:
মদনের স্ত্রী ও পুত্রদের ইডির তলব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নির্বিকার। তিনি বলেন, “দেশের এজেন্সি ডেকেছে, তারা যাবে। অন্যায় করে থাকলে সেটা দেখবে। আমার ভয় নেই।” অন্যদিকে, কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে দু-কলি গান গেয়ে মদন কটাক্ষ করেন, “আমার মনে হয় কুণালের এখন মন হারানোর দিন চলে এসেছে।” কুণাল ঘোষ অবশ্য পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মদনের অবস্থানকে গুরুত্ব না দিয়ে মন্তব্য করেন, “আমাদের ভেতরের একটা লোক ওদের মধ্যে রইল।”
একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ ও শুভেন্দুর প্রশংসা:
তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও মদন মিত্ররা ২১ জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ কর্মসূচি গান্ধী মূর্তির পাদদেশে পালন করার ডাক দিয়েছেন। মদন মিত্র সাফ জানিয়ে দেন, “গুলি চালনার দিনে আমি ছিলাম, ওটাই আসল জায়গা। তৃণমূলের সমস্ত কর্মীকে আমি গান্ধী মূর্তির সামনে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।” পাশাপাশি, এদিন মদন মিত্র বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর মতো বলিষ্ঠ নেতা এই রাজ্যে এখন আর কেউ নেই।”
রাজ্যসভার টিকিট ও লকেট প্রসঙ্গ:
কোয়েল মল্লিকের বিজেপি যোগ এবং লকেট চট্টোপাধ্যায়ের রাজ্যসভার টিকিটের সম্ভাবনা নিয়েও সরগরম তৃণমূলের অন্দর। এই প্রেক্ষাপটে কুণাল ঘোষ ব্যক্তিগতভাবে লকেট চট্টোপাধ্যায়কে রাজ্যসভায় দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।
একদিকে কালীঘাটের ওপর আস্থা হারিয়ে মদন মিত্রের ‘দাবাং’ তৃণমূল গড়ার ডাক, অন্যদিকে বিজেপির প্রতি তাঁর নরম মনোভাব—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ভাঙনের সুর স্পষ্ট, তা এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে পরিষ্কার।