অসুস্থ স্ত্রী চা বানাতে অস্বীকার করতেই পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারল স্বামী! ভোপালে যাবজ্জীবন সাজা

মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ঘটল এক নৃশংস ঘটনা। অসুস্থ স্ত্রীকে চা ও খাবার তৈরি করতে অস্বীকার করায় পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অপরাধে অভিযুক্ত স্বামী প্রীতম মীনাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল আদালত। ভোপালের অতিরিক্ত দায়রা জজ সুচিতা শ্রীবাস্তবের আদালত এই রায় ঘোষণা করেছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেইদিন?
ঘটনাটি ২০২৪ সালের ১২ জুলাই সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ আইশবাগ থানা এলাকায় ঘটে। অসুস্থতার কারণে দুর্গা মীনা বিছানায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এই সময় স্বামী প্রীতম এসে তাঁকে চা ও খাবার তৈরি করার নির্দেশ দেন। দুর্গা অসুস্থতার কথা জানিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার আবেদন করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রীতম। অভিযোগ, ঝগড়া বড় আকার নিলে তিনি প্রথমে উচ্চস্বরে এফএম রেডিও চালিয়ে দেন। এরপর নিচে গিয়ে পেট্রোল কিনে এনে স্ত্রীর গায়ে ঢেলে দেশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।

হাসপাতালে শেষ জবানবন্দি
প্রতিবেশীদের সহায়তায় দগ্ধ দুর্গাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুলিশ তাঁর মৃত্যুকালীন জবানবন্দি রেকর্ড করে। সেখানে তিনি প্রীতমের অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছিলেন। প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ১৯ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়।

যৌতুকের দাবি ও ভয়াবহ মানসিকতা
আদালতে মৃতার মা চাঞ্চল্যকর বয়ান দেন। তিনি জানান, বিয়ের এক বছর পার হতে না হতেই যৌতুকের দাবিতে শুরু হয় নির্যাতন। প্রীতম নিজে কোনো কাজ করতেন না, বরং স্ত্রীর উপার্জনের ওপরই বেঁচে থাকতেন। মামলার সরকারি কৌঁসুলি জানান, অভিযুক্তের মানসিকতা ছিল অত্যন্ত বিকৃত। শুধু যৌতুক নয়, অভিযুক্ত তার স্ত্রীকে অন্য এক পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার চেষ্টা করত, যাতে সেই টাকা দিয়ে সে গাড়ি কিনতে পারে।

আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ
মামলার শুনানিতে বিচারক মৃত্যুকালীন জবানবন্দি এবং সাক্ষীদের বয়ানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেন। আদালত তাঁর রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, স্ত্রীকে এভাবে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা একটি জঘন্য ও অমানবিক অপরাধ। গার্হস্থ্য সহিংসতা এবং নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে এই রায় একটি কঠোর বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *