ভোটের আগে ‘ফ্রিবি’ কালচার! বিনামূল্যে উপহারের প্রতিশ্রুতি বন্ধে সুপ্রিম কোর্টে জরুরি শুনানি

নির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক দলগুলোর বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, জল বা অন্যান্য সামগ্রী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি (Freebies) নিয়ে ফের সরগরম সুপ্রিম কোর্ট। এই জনমোহিনী প্রতিশ্রুতি নিষিদ্ধ করার দাবিতে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) প্রেক্ষিতে শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করল।

সুপ্রিম কোর্টে কী ঘটল?
আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ, যাতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনও রয়েছেন, জানিয়েছে যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার মতো সময় বা ‘অবসর’ পেলে তবেই তারা শুনানির দিন ধার্য করবে। তবে আবেদনকারী এবং প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল একটি কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। যদিও প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই বিষয়টি বর্তমানে অপেক্ষা করতে পারে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও আবেদনকারীর দাবি:
২০২২ সাল থেকে এই মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। মামলার মূল দাবিগুলো হলো:

নির্বাচনী প্রতীক বাতিল: যে রাজনৈতিক দলগুলো সরকারি তহবিল থেকে বিনামূল্যে পণ্য বা পরিষেবার প্রতিশ্রুতি দেবে, তাদের নির্বাচনী প্রতীক বাজেয়াপ্ত বা নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।

ভোটের পবিত্রতা: আবেদনকারীর মতে, এই ধরনের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

সাংবিধানিক লঙ্ঘন: সরকারি কোষাগারের টাকায় ব্যক্তিগত পণ্য বা পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সংবিধানের ১৪ (সাম্যের অধিকার), ১৬২, ২৬৬(৩) এবং ২৮২ অনুচ্ছেদের বিরোধী বলে দাবি করা হয়েছে।

নতুন আইন: অশ্বিনী উপাধ্যায় কেন্দ্রকে এই বিষয়ে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়ার জন্যও আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ:
আবেদনকারীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি তুলেছেন, ‘নির্বাচনী প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশ, ১৯৬৮’-এর ধারায় সংশোধন আনা হোক। যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে যে, সরকারি তহবিল থেকে বিনামূল্যে সামগ্রী দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে কোনো রাজনৈতিক দল আর রাজ্য দলের স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য বলে গণ্য হবে না।

গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:
এর আগে ২০২২ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এনভি রামানার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বিষয়টিকে ‘গভীর উদ্বেগের’ আখ্যা দিয়েছিল। আদালত সে সময় পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, অনেক ক্ষেত্রে এই ‘ফ্রিবি’-র বাজেট রাজ্যের নিয়মিত উন্নয়নমূলক বাজেটকেও ছাড়িয়ে যায়, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

বর্তমানে এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, তার দিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *