ই২০ পেট্রোল নিয়ে চরম বিতর্ক! ‘স্টপ ই২০’ প্রচার শুরু কেজরিওয়ালের, কেন এই প্রতিবাদ?

ই২০ (E20) পেট্রোল নিয়ে দেশজুড়ে দানা বাঁধা বিতর্কের আবহে সরাসরি পথে নামলেন আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। যথাযথ প্রস্তুতি ও পরিকাঠামো ছাড়াই সরকার ই২০ পেট্রোল চাপিয়ে দিচ্ছে—এই অভিযোগে আজ তিনি শুরু করেছেন ‘স্টপ ই২০ পেট্রোল’ (Stop E20 Petrol) অনলাইন স্বাক্ষর অভিযান।
কেজরিওয়ালের প্রধান অভিযোগসমূহ:
অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার জনগণের উদ্বেগকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছে। তার অভিযোগের মূল দিকগুলো হলো:
মাইলেজের সমস্যা: বহু গাড়ির মালিক অভিযোগ করছেন যে, ই২০ পেট্রোল ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ইঞ্জিনের ক্ষতি: ফুয়েল পাম্প, ইনজেক্টর এবং ইঞ্জিনের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা ও নষ্ট হওয়ার ঘটনা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন কেজরিওয়াল।
খরচের বোঝা: সাধারণ পেট্রোলের তুলনায় ই২০ পেট্রোলের শক্তি দক্ষতা (Energy Efficiency) কম, অথচ দামের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ছাড় নেই। ফলে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়ছে।
সার্ভিসিং খরচ: গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে।
সরকারের কাছে দাবি:
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, সরকার মানুষকে কোনো বিকল্প দিচ্ছে না। তার প্রস্তাব হলো:
১. পেট্রোল পাম্পগুলোতে বিশুদ্ধ পেট্রোল, ই১০ এবং ই২০—এই সবকটি বিকল্পই রাখতে হবে, যাতে গ্রাহক নিজের পছন্দমতো জ্বালানি বেছে নিতে পারেন।
২. ই২০ জ্বালানির দাম বিশুদ্ধ পেট্রোলের চেয়ে কম করতে হবে।
কীভাবে এই প্রচারাভিযানে অংশ নেবেন?
কেজরিওয়াল দেশবাসীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন, StopE20petrol.com ওয়েবসাইটটিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করতে। একই সঙ্গে, ই২০ ব্যবহারের ফলে তাদের গাড়িতে কী কী সমস্যা হচ্ছে, সেই অভিজ্ঞতার কথা সেখানে নথিভুক্ত করার অনুরোধ করেছেন তিনি।
গতকালই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এ নিয়ে চিঠি লিখেছেন কেজরিওয়াল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সরকার যদি জনগণের এই কণ্ঠস্বর না শোনে, তবে তা সাধারণ মানুষের ওপর এক ধরনের অন্যায্য চাপ হিসেবেই গণ্য হবে।
এখন দেখার বিষয়, সাধারণ গাড়ির মালিকদের এই ক্ষোভ ও স্বাক্ষর অভিযানের জেরে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বা সরকার কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয় কি না।