বেকারত্ব দূর করতে পুলিশের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! স্বাধীনতা দিবসেই আসছে বিশেষ অ্যাপ, ১ মাসে চাকরি পাবেন ১০০০ যুবক-যুবতী!

শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এবার ত্রাতার ভূমিকায় খোদ পুলিশ প্রশাসন! তবে এবার আর লাঠি বা আইনি খাঁড়া নয়, সম্পূর্ণ অভিনব উপায়ে প্রযুক্তির হাত ধরে কর্মসংস্থানের মহৎ উদ্যোগ নিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। স্বাধীনতা দিবসের পুণ্য লগ্নে জেলা পুলিশের তরফে চালু হতে চলেছে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, যার নাম রাখা হয়েছে ‘পেস’ (PACE – Police Assistance in Career & Employment Enhancement)। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং দালালমুক্ত পদ্ধতিতে স্থানীয় যুবকদের চাকরি পাইয়ে দিতেই পুলিশের এই মাস্টারপ্ল্যান।

কোনো দালাল নেই, সরাসরি যোগাযোগ!
জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, এই ‘PACE’ অ্যাপটি আসলে চাকরিপ্রার্থী এবং নিয়োগকারী সংস্থা বা শিল্পপতিদের মধ্যে একটি সরাসরি সেতু হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীরা এই অ্যাপে নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বায়োডাটা (Resume) আপলোড করতে পারবেন। অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন ছোট-বড় কলকারখানা ও বেসরকারি সংস্থা তাদের শূন্যপদের তালিকা এই অ্যাপে পোস্ট করবে। এর ফলে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা দালালের খপ্পরে না পড়ে, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও স্বচ্ছতার সাথে যোগ্য প্রার্থীরা সরাসরি ইন্টারভিউ ও চাকরির সুযোগ পাবেন।

এক মাসে ১০০০ চাকরির টার্গেট!
পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার (SP) পপিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, এই গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াটি জেলা পুলিশের কড়া নজরদারিতে এবং নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনেই সম্পন্ন হবে। অ্যাপটি লঞ্চ হওয়ার প্রথম এক মাসের মধ্যেই যাতে অন্তত ১,০০০ জন যোগ্য প্রার্থীকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া যায়, প্রশাসন এখন সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ অগ্রাধিকার পাবেন পশ্চিম মেদিনীপুরের স্থায়ী বাসিন্দারাই, যার ফলে স্থানীয় কলকারখানাগুলো জেলা থেকেই দক্ষ কর্মী বেছে নিতে পারবে।

দুর্নীতিতে লাগাম এবং অপরাধ কমানোর জোড়া লক্ষ্য
বিগত দিনে বিভিন্ন নিয়োগে জালিয়াতি বা প্রতারণার যে সব অভিযোগ সামনে আসে, সেই সব জালিয়াতি রুখতেই পুলিশের এই কড়া পদক্ষেপ। এই প্ল্যাটফর্মটি আসার ফলে চাকরি দেওয়ার নামে ভুয়ো প্রতিশ্রুতি বা টাকা হাতানোর খেলা চিরতরে বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি, পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা মনে করছেন, জেলার যুবসমাজের হাতে যদি একটি স্থায়ী এবং সম্মানজনক ক্যারিয়ার তুলে দেওয়া যায়, তবে অপরাধমূলক কাজকর্ম অনেকটাই কমে আসবে। যুবসমাজ স্বনির্ভর হলে জেলায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা আরও সহজ হবে।

আগামী ১৫ আগস্ট, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের দিন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যাপের পরিষেবা চালু হতে চলেছে। প্রযুক্তি, জনসেবা এবং কর্মসংস্থানকে একই ছাতার তলায় এনে জেলা পুলিশের এই অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মেদিনীপুরের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিল্পমহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *